রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর : নির্বাচনী প্রচারের অন্তিম দিনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়। সিপিআইএম প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাসের সমর্থনে গেট রোড শ্মশান কালী বাড়ি থেকে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়। জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই মিছিল এলাকাজুড়ে প্রচারের শেষ বার্তা পৌঁছে দেয় এবং ভোটারদের কাছে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়।

নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে এসে নদীয়ার কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র কার্যত রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই আবহেই রবিবার সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাসের সমর্থনে আয়োজিত হয় এক বৃহৎ মিছিল, যা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।
গেট রোড শ্মশান কালী বাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল ধীরে ধীরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে। মিছিলে অংশগ্রহণ করেন বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী ও সমর্থক। লাল পতাকা, ব্যানার এবং ফেস্টুনে সেজে ওঠে গোটা এলাকা। “ফেরাতে হাল আসুক লাল”, “বাঁচার মত বাঁচতে চাই, হাতুড়ি-কাস্তে চাই” সহ একাধিক স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পথঘাট।
সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল লক্ষণীয় উদ্দীপনা। মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন প্রার্থী অদ্বৈত বিশ্বাস নিজে। তাঁর উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ যোগায়। স্থানীয় বাসিন্দারাও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে মিছিল প্রত্যক্ষ করেন, অনেকের মধ্যেই কৌতূহল ও আগ্রহ দেখা যায়।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, নদীয়া জেলা সিপিআইএমের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস এম সাদি। এছাড়াও ছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক সুবিনয় ঘোষ এবং জেলার অন্যান্য বাম নেতৃত্ব। তাঁদের উপস্থিতি মিছিলে রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলে।

তাদের এই মিছিল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্ভয়ে ভোটদানের আহ্বানও জানানো হয় মঞ্চ থেকে। ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সার্বিকভাবে, নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে সিপিআইএমের এই মিছিল কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক আবহকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শক্তি প্রদর্শনের এই প্রচেষ্টা আসন্ন নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনই বলা না গেলেও রাজনৈতিক মহলে এর প্রভাব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন নজর ভোটের দিন এবং তার ফলাফলের দিকে।

Be the first to comment