রোজদিন ডেস্ক :
ভোট এলেই বেশির ভাগ রাজ্য সরকার কল্পতরু হয়, কিভাবে রাজ্যবাসীর মন জয় করা যায়, সেই লক্ষ্যে চলে দেদার খয়রাতি প্রকল্পও। দেশব্যাপী এই “খয়রাতি সংস্কৃতি ” (!) নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললো দেশের শীর্ষ আদালত। ভোটমুখি তামিলনাড়ুর রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা ওখানে সব মানুষকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। যা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছেন। এই নিয়ে তাঁরা যে ক্ষুব্ধ তার ইঙ্গিত মেলে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে। তামিলনাড়ু সরকারের উদ্দেশ্য তাঁদের প্রশ্ন, “দেশে কি ধরণের সংস্কৃতি আমরা তৈরি করছি? আমরা
বুঝতে পারছি, যাঁরা বিদ্যুতের বিল দিতে পারেন না, তাঁদের জন্যই আপনাদের এই উদ্যোগ। কিন্তু কে তা দিতে পারবেন, আর কে পারবেন না, তা আলাদা না করে আপনারা (পরিষেবা) দিতে শুরু করলেন!! ” এটা কি তুষ্ট করার নীতি নয় বলে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
রাজ্যগুলিকে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, তাদের উচিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। যদি তাদের সকাল থেকে সরকার বিনামূল্যে খাবার দেওয়া শুরু করে, সন্ধ্যায় বিনামূল্যে সাইকেল দেয়, তারপর আবার বিনামূল্যে বিদ্যুৎও দেয়, তবে আর কে কাজ করবে? বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির সংযোজন, তাঁরা শুধু একটি রাজ্যের কথা বলছেন না, সব রাজ্যের বিষয়েই বলছেন।
উল্লেখ্য, ভোটমুখি এই রাজ্যে নয়া রূপে বেকার ভাতা চালু হয়েছে, বৃদ্ধি হয়েছে জনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকাও, তামিলনাড়ুতেও ভোটের কথা মাথায় রেখে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সহ একাধিক জনমোহিনী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা।

Be the first to comment