মহিলা সংরক্ষণ না, উদ্দেশ্য এলাকা পুনর্বিন্যাস : সোনিয়া গান্ধী

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : মহিলা সংরক্ষণ না, আসল উদ্দেশ্য এলাকা পুনর্বিন্যাস বলে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী মন্তব্য করেছেন৷ এই উদ্দেশ্যেই চলতি সপ্তাহে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। একে তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও সংবিধানের ওপর আঘাত বলে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। এক নামী ইংরেজি দৈনিক তাঁর লেখা এই গুরুত্বপূর্ণ উপ-সম্পাদকীয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তুলেছে। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সোনিয়া গান্ধীর মতে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যখন তুঙ্গে, তখন বিশেষ অধিবেশন ডেকে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করানোর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য অন্য। এত তাড়াতাড়ি এই বিল গ্রহণের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।
এর আগে কেন্দ্রর শাসক দলই আগামী জনগণনার পর এই বিল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিল। রাজ্যসভার বিরোধী নেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খড়গে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেই এই বিল রূপায়িত করার দাবি করেছিলেন, কিন্ত কেন্দ্র রাজী হয় নি। এখন তাঁরা শুনেছেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই তা বলবত করার জন্য সংবিধান সংশোধন করা হবে। কেন প্রধানমন্ত্রী এর জন্য ত্রিশ মাস অপেক্ষা করলেন সোনিয়া গান্ধী প্রশ্ন তোলেন। কেনই বা এই নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়া অবধি তিনি অপেক্ষা করছেন না? বিরোধীরা এই সব নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সর্বদলীয় বৈঠক করার জন্য তিনবার সরকারকে চিঠি দিয়েছেন, তা না মেনে প্রধানমন্ত্রী এমন ভাব দেখাচ্ছেন তিনিই একমাত্র মানুষ, যিনি মনে করেন, “আমার ওয়ে অথবা হাইওয়ে!”
তাঁর প্রয়াত স্বামী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীই প্রথম মহিলা সংরক্ষণের দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

আগামী ১৬ এপ্রিলের এই বিশেষ অধিবেশন নিয়ে সাংসদ দের ও এখন ও কিছু জানানো হয় নি। সোনিয়া গান্ধী মনে করেন, জনগণনার পরই এলাকা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এত তড়িঘড়ি কেন, কি উদ্দেশ্যে বিশেষ অধিবেশন বসছে, তা নিয়ে সংশয় আছে তাঁদের। একে তিনি গণতন্ত্র বিরোধী মনে করেন। আর তিন মাস পর সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হবে, তখন কেন মহিলা সংরক্ষণ বিল আনা যেত না, প্রশ্ন তোলেন সোনিয়া গান্ধী।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও অভিযোগ করেছেন, এলাকা পুনর্বিন্যাসের নামে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে তিন টুকরো করতে চায়।
মহিলা সংরক্ষণ বিল সংশোধন ও কার্যকর করার নেপথ্যে কেন্দ্র কি ভাবছে তা নিয়ে বিরোধী মহলে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*