রোজদিন ডেস্ক :
কদিনের জল্পনা সত্যি করে আজ দুপুরে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। ২০১৮ সাল থেকে এই মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ পদের কাজ সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন তিনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রাক্তন শাসক দলের ডামাডোলের মাঝে তাঁর পদত্যাগের খবর ও রটেছিল। তিনি দল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে ইস্তফা দানের ইচ্ছা ও প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এতে সম্মতি দেন। সেই মত আজ কলকাতা পুরসভা ভবনে এসে ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন।
গতকালই বিধান নগরের মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তাঁর আচমকা পদত্যাগে রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় দেখা দিয়েছিল।
ঘড়ির কাঁটা তখন তিনটে ছুঁয়েছে। ধীর পায়ে সাংবাদিক বৈঠক করতে এলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রথমেই সবিনয়ে জানালেন, যে চেয়ারে বসে তিনি এতদিন মেয়রের দায়িত্ব সামলেছেন, তিনি তাঁর যোগ্য ছিলেন না। এই চেয়ার অলংকৃত করেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, বিধান চন্দ্র রায় প্রমুখ দেশ বরেণ্য মনীষিরা।
২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এই পর্যন্ত কি কি কাজ করেছেন ও কি কি কাজ করে যেতে পারলেন না তা জানান।
কেন তিনি মেয়র পদে ইস্তফা দিচ্ছেন, তার কারণ জানিয়ে বলেন, ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরান সর্দার হয়ে তিনি আর এই কাজ করতে পারছেন না। দীর্ঘ বহু বছর একই সঙ্গে পুরমন্ত্রী ও মেয়রের দায়িত্ব দাপটের সঙ্গে পালন করেছেন বলে জানান। কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যা সমাধানের কাজ করতেন। এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না৷ তাই চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারবেন না
তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানান ফিরহাদ হাকিম।। বলেন, সসম্মানে এই পদ থেকে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন। নেত্রীর সায় মিলেছে।
রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, পুরসভা স্বচ্ছ ভাবে চালান, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করুন।
মেয়র হিসাবে তাঁর আমলে কি কি কাজ করেছেন তা জানান ফিরহাদ হাকিম।
যে কাজগুলি করা হয় নি সেই নিয়ে বলেন, মেয়র থাকাকালীন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এখান থেকে ঠনঠনিয়া অবধি হাঁটুজলে গামবুট পরে হেঁটে গেছিলেন বলে গল্প শুনেছেন। ইচ্ছা ছিল, ওই এলাকায় জল জমা মুক্ত করবেন। এই উদ্দেশ্যে হৃষীকেশ পার্কে বুষ্টার পাম্পিং স্টেশন বসানোর কাজও শুরু হয়েছে, তা শেষ করা হোল না বলে আক্ষেপ করেন।
তাঁর দাবি, কলকাতাকে জমা জল, জঞ্জাল মুক্ত করতে বহু পদক্ষেপ নিয়েছেন। কোভিড, আম্ফান এর মত সঙ্কটকালে কলকাতাবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন। এবার নিজেই বিদায় নিচ্ছেন। তাঁর ফোনে টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন তিনি, সেই কথাও বলেন।
সাংবাদিক বৈঠকের পর পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের ঘরে গিয়ে ইস্তফা পত্র দিয়ে আসেন তিনি। ধীর পায়ে এসে প্রণাম করেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তি ও তাঁর স্মৃতিধন্য চেয়ারে।
এরপর নিজের ঘরে শেষবারের মত গিয়ে জিনিসপত্র যেটুকু ছিল, গুছিয়ে নিয়ে কার্যত সজল চোখে, নীরবে চলে যান ফিরহাদ হাকিম।
এর আগে পুরসভায় দুই বোরো চেয়ারম্যান, অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদে ও তৃণমূলের তিন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। এবার খোদ মেয়র ও পদত্যাগ করলেন।
সব মিলিয়ে পুরসভার পরিচালন ভার নিয়ে বহু প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।
বিজেপির দুই কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিত, সজল ঘোষ পৃথকভাবে বলেন, মেয়র কেন ইস্তফা দিলেন তাঁরা জানেন না।
সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর পুরসভার কাজ সবই পুর কমিশনার দেখছেন।
মেয়র ইস্তফা দিলেও নাগরিক, পুর পরিষেবা ব্যাহত হবে না বলে পুর ভবন সূত্রে জানা যায়।

Be the first to comment