প্রতিবেদন: নির্দিষ্ট মান নির্ধারক পরীক্ষায় ডাহা ফেল, নেই পরিকাঠামো, কোনওটার তো অস্তিত্বই নেই। এই রকম অজস্র অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের ৪৫০টিরও বেশি বিএড কলেজের (B.ED. COLLEGE) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল শিক্ষা দফতর। ইতিমধ্যেই ওই কলেজকে কারণ দর্শানোর বা শো-কজ নোটিস ধরানো হয়েছে।
দায়িত্ব পাওয়ার পরই রাজ্যের বিএড কলেজগুলিতে চরম অরাজকতা ও ডিগ্রি বিক্রির চক্র চলছে বলে সরব হন খোদ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্য জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ও পরিকাঠামোহীন বিএড প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এবার সত্যিই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল প্রশাসন। কিছুদিন আগে কলেজগুলি পরিদর্শন করেন শিক্ষা দফতরের কর্তারা। তখনই তাদের হাতে উঠে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাস্তব বলছে মান নির্ধারক
১০০ নম্বরের নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্সে পরিকাঠামো ও পাঠদানের মান পরীক্ষায় কলেজগুলির গড় নম্বর মাত্র ৫০ শতাংশের সামান্য বেশি। এখানেই শেষ নয়। পরিদর্শকেরা নির্দিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে দেখেছেন ৫৩টি এমন বিএড কলেজের ঠিকানা রয়েছে যেখানে বাস্তবে কোনও কলেজই নেই। একটি ছোট ফ্ল্যাটের ঠিকানা দেওয়া অন্তত ১৭টি কলেজের খোঁজ মিলেছে। যেখানে শুধু এনওসি আছে, কলেজই নেই। দেখা গিয়েছে, ফ্ল্যাট বা ড্রয়িং রুমের ঠিকানায় বিএড কলেজের এনওসি দেওয়া রয়েছে। ভুয়ো ও অযোগ্য মিলিয়ে মোট ২৬৫টি কলেজকে পুরোপুরি ‘অচল’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১২১টি কলেজের পরিকাঠামো অত্যন্ত সঙ্গীন। মাত্র ১৫১টি এমন কলেজ মিলেছে যাদের পরিকাঠামো ও পড়ানোর মান সন্তোষজনক।
অভিযোগ, তৃণমূল আমলেই ব্যাঙের ছাতার মতন বিএড কলেজ গজিয়ে উঠে রাজ্যে। টাকা দিলেই মিলত কলেজের অনুমোদন থেকে ডিগ্রি। নিয়োগ দুর্নীতিতেও একাধিক বিএড কলেজের নাম সামনে এসেছিল। শিক্ষা দফতর এবার আসরে নামায় আশা করা যায় ছবিটা এবার বদলাবে।

Be the first to comment