Medical College এ চুম্বক দিয়ে শিশুর ফুসফুসে আটকে থাকা চুম্বক বার করে চিকিৎসার বিরল নজির

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
চুম্বক দিয়ে এক ছয় বছরের শিশুর ফুসফুসের কাছে আটকে থাকা চুম্বক বার করে চিকিৎসার বিরল নজির রাখলেন মেডিকেল কলেজের ইএনটি বিভাগের প্রধান সৌমেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি সহ সব চিকিৎসকরা। বাদুড়িয়ার মহেশতলার ছোট্ট আরাফত আলি (৬) কে কাশি, শ্বাসকষ্টর সমস্যা নিয়ে তার মা গত মঙ্গলবার মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন তার বুকের কাছে ছোট এক চুম্বক আটকে আছে। প্রথমে ব্রঙ্কোস্কপি, পরে নানা ভাবে চেষ্টা করেও ফুসফুসের কাছে আটকে থাকা চুম্বক বার করতে পারেন নি। ছোট্ট আরাফতকে সুস্থ করতে মরিয়া চেষ্টা করেন দীপ্তাংশু মুখার্জি সহ অন্যরা। জরুরি ব্যবস্থা হিসাবে এসএসকেএমে থোরাকটমির করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আজ সকাল অবধি ওখানে পিকু বিভাগে আরাফতের জন্য শয্যা পাওয়া যায়নি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শেষে চুম্বক দিয়ে চুম্বক তোলার পদ্ধতি বার করেন তাঁরা।

চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখার্জি নিজে মানিক তলায় লেদ কারখানা গুলিতে যান। সঙ্গে থাকা এক্স রে র ছবি কয়েকজনকে দেখানোর পর হাওড়ার শ্যামপুরের প্রভাকর কাঁড়ার জানান,আরাফতের ফুসফুসের কাছে আটকে থাকা চুম্বক টি খুব শক্তিশালী নয়,এর জন্য শক্তিশালী চুম্বক প্রয়োজন। তিনি তা তৈরি ও করে দেন।

এরপর কার্যত এক রুদ্ধশ্বাস যুদ্ধ চলে একদল চিকিৎসক ও আটকে থাকা চুম্বকের সঙ্গে। বিভাগীয় প্রধন সৌমেন্দ্রনাথ ব্যানার্জির নেতৃত্বে দীপ্তাংশু মুখার্জি, শুভ্রজিৎ নস্কর, উদিতা সোরেন , অ্যানাস্থেসিস্ট দেবাশিস ঘোষ,আত্রেয়ী ঘোষরা এই বিরল অস্ত্রোপচার করেন। ট্রাকিওস্টমির ছিদ্রপথ দিয়ে চুম্বকের সহায়তায় বার করে আনেন আরাফতের ফুসফুসের কাছে আটকে থাকা সেই চুম্বক। যা বার করা না গেলে প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা ও উড়িয়ে দেওয়া যায়নি।

গত তিন দিন ধরে আটকে থাকা সেই চুম্বক বার করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন চিকিৎসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই। তাকে আই সি ইউ এ রাখা হয়। স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে চিকিৎসক দীপ্তাংশু মুখার্জি জানান,ওর দুটি ফুসফুসের মধ্যে হাওয়া চলাচল শুরু হয়েছে। মনে হোল তাঁরা যেন যুদ্ধ জয় করেছেন।

সরকারি মেডিকেল কলেজের এই বিরল চিকিৎসার নজিরে আপ্লুত, খুশি অন্যরাও। ছোট্ট আরাফতের জন্য চিকিৎসক দের এই আপ্রাণ প্রয়াস কে কুর্নিশ জানান সকলেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*