এবছরেও পথ শিশুদের নিয়েই পুজো পরিক্রমায় মেতে উঠবে মনীন্দ্রচন্দ্র কলেজের ছাত্রছাত্রীরা; পড়ুন!

Spread the love
পুজোর রং লেগেছে বাংলায়। হিমেল হাওয়ার পরশে আগমনীর বার্তায় বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধ। পুজো পরিক্রমা, সে তো অনেকই হয়। থিমের ছোঁয়াচে তিলোত্তমার পুজো এখন অনেক আধুনিক। প্রতি বছরই নতুন সাজে নতুন রঙে পুজো পরিক্রমার স্বাদ চাখেন শহর থেকে শহরতলির মানুষ। যান্ত্রিক নয়, পরিক্রমা যদি হয়ে ওঠে মনের আনন্দে রঙিন, তাহলে কেমন হয়? শিশু মনের বাঁধ ভাঙা খুশির পরশে তিলোত্তমার বুকেও সোনালী রঙের ছোঁয়া লাগে। তাই প্রতি বছরের মতো এ বছরেও পথ শিশুদের নিয়েই পুজো পরিক্রমায় মেতে উঠতে চলেছে মহারাজা মনীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
সাত পেরিয়ে আট-এ পা দিল মনীন্দ্রচন্দ্র কলেজের পুজো পরিক্রমা। ১৪ অক্টোবর পঞ্চমীর দিনে অনুষ্ঠান। তার আগে গোটা কলেজেই সাজো সাজো রব। 
কোনও সরকারি অনুদান নয়, বরং পুজো পরিক্রমার খরচের জোগান দেন পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারাই। কলকাতা শহরের নানা জায়গা থেকে দুঃস্থ শিশুদের নিয়েই এই পরিক্রমার আয়োজন। এ বছর রাজাবাজার, খন্না, মানিকতলা এলাকার জনা ৭০ শিশু যোগ দিচ্ছে এই অনুষ্ঠানে। প্রত্যেকেরই বয়স আটের মধ্যে।
পুজো মানেই চারদিকে নতুন গন্ধ। শরতের আকাশ আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার কথা বলে, একাত্ম হওয়ার হাতছানি দেয়। রঙিন পোশাক ও দামি গাড়ির ভিড়ে ছোট্ট মনগুলি কোথায় যেন হারিয়ে যায়। বছরভর রাস্তাতেই হুটোপাটি যাদের পুজোর চারটে দিন তাদের মুখে এক চিলতে রোদ্দুর আনতেই মনীন্দ্রচন্দ্রের এই অভিনব উদ্যোগ।
পথ চলার শুরু ২০১১ সাল থেকে। পথ শিশুদের নিয়ে পুজো পরিক্রমার উদ্যোক্তা কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর কথায়, ‘‘নিজের ছেলের জন্মদিনের আনন্দটা আমি এই দুঃস্থ বাচ্চাদের’ সঙ্গে ভাগ করে নিতাম। পরে মনে হয়, আমার ছাত্রছাত্রীদেরও এই কাজে যুক্ত করলে কেমন হয়? সাংবাদিকতার পাঠের মাঝেই মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হবে আমার ছাত্রেরা। সেই ভাবনা থেকে শুরু হল পথ চলা। ’’
সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে অনুষ্ঠান। উপস্থিত থাকবেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা, আলমবাজার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মহারাজ স্বামী সারদা আত্মস্থানন্দ, পূর্বরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র ও কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। নতুন জামায় সেজে টালা প্রত্যয় থেকে শুরু হবে পরিক্রমা। দমদমের দু’টি মণ্ডপ দেখে সল্টলেকের তিনটি পুজোর শেষে নিউটাউনের এএ ব্লকে গিয়ে শেষ হবে পরিক্রমা। ব্লকের পুজোর উদ্বোধন করবে শিশুরা। তারপর খাওয়া দাওয়ার পালা।
আকাশ বললেন, শুধু পুজোর একদিন নয়, সারা বছরই শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পাশে থাকবেন পড়ুয়ারা। সঙ্গ দেবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
লাভ ক্ষতির দাঁড়িপাল্লায় সব কাজকে নিরিখ-পরখ করা যায় না। কিছু উদ্যোগে থাকে একেবারেই মনের টান। আয়োজনের বাড়বাড়ন্ত কতটা সেটা বিষয় নয়, এঁদো গলি পেরিয়ে ঝুপড়ি ঘরের চৌহদ্দিতেই যাদের পুজো সীমাবদ্ধ তাদের মুখে কতটা হাসি ফুটল সেটাই মোদ্দা কথা। চারদিকেই তো খুশির রং, হোক না পুজো একটু অন্যরকম। মনের রঙে রঙিন হয়ে উঠুক পুজো পরিক্রমাও।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*