উনিশের ভোটে বাংলার মাটিতে মরিয়া লড়াই লড়তে ডিসেম্বর থেকেই ময়দানে  নামছে বিজেপি, পড়ুন

Spread the love

আলপথ থেকে রাজপথ। চষে ফেলা হবে রাজ্যের সমস্ত প্রান্ত।

উনিশের ভোটে বাংলার মাটিতে মরিয়া লড়াই লড়তে ডিসেম্বর থেকেই ময়দানে  নামছে বিজেপি। রাজ্যের তিন প্রান্ত থেকে রথযাত্রা বের করবে বিজেপি। তিনটি যাত্রাই এসে মিশবে কলকাতায়। তারপর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সমাবেশে বক্তৃতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

৫ ডিসেম্বর তারাপীঠ থেকে প্রথম রথযাত্রা শুরু করবে বিজেপি। ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় রথযাত্রা শুরু হবে কোচবিহারের রাসমেলা মাঠ থেকে। গঙ্গাসাগর থেকে তৃতীয় রথযাত্রা শুরু হবে ৯ ডিসেম্বর। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনটি রথযাত্রারই সূচনা করবেন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। প্রায় দেড় মাসের বেশি সময় ধরে রাজ্যের কয়েক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই যাত্রা। জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের গোড়ার দিকে তিনটি যাত্রাই কলকাতায় পৌঁছবে। তারপর হবে ব্রিগেডের সমাবেশ।
বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “জানুয়ারি মাসের ২২-২৩ তারিখ নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর ডেট পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তারপর গোটা পরিকল্পনা নির্দিষ্ট করা হবে।”

প্রসঙ্গত গত একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকেই ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশের ঘোষণা করে দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার সভা শেষের এক ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা জানিয়ে দিয়েছিলেন ২৩ জানুয়ারি ব্রিগেডে সমাবেশ করবে বিজেপি। কিন্তু এখনও সেই তারিখ পুরোপুরি স্থির নয় বলেই খবর বিজেপি সূত্রে। তবে ওই সময়ের মধ্যে একটি দিনেই সমাবেশ হবে ব্রিগেডে।

রাজ্যের ৪২টি-র সব বিধনসভা, অর্থাৎ ২৯৪টি বিধানসভা এলাকাকে ছুঁয়ে যাবে এই রথযাত্রা। গোটা কর্মসূচিতে বাংলায় আসবেন বিজেপি-র বাঘাবাঘা নেতানেত্রীরা। স্মৃতি জুবিন ইরানি থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, যোগী আদিত্যনাথ থেকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশরা আসবেন রাজ্যে।
জেলায় জেলায় ব্লকে ব্লকে কলকাতামুখী তিনটি রথযাত্রা কয়েকশো ছোট, মাঝারি সভা করবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গোটা নভেম্বর মাস জুড়ে চলবে বুথ স্তরে সংগঠন গোছানোর কাজ। তারপর সংগঠিত শক্তি নিয়েই রথাযাত্রায় নামবে গেরুয়াবাহিনী।

প্রসঙ্গত, দেশের রাজনীতিতে বিজেপি-র রথযাত্রা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বাংলার মাটিতে এই রথযাত্রা অবশ্যই প্রচারের নতুন আঙ্গিক। আর উনিশের ভোটের প্রচার মহড়ায়, সেই রথযাত্রাকেই হাতিয়ার করছে বঙ্গ বিজেপি।

এমনিতেই বাংলার বিজেপি নেতাদের ৪২টি আসনের মধ্যে ২২টি আসনের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন অমিত শাহ। এ বার বিজেপি-র সর্বভারতীয় স্তরেই নির্বাচনী রণকৌশল ‘লুক ইস্ট।’ পূবে তাকাও নীতির মাধ্যমেই পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি থেকে আসন জিততে চায় গেরুয়া শিবির। আর বাংলা এখন বিজেপি-র অন্যতম ‘প্রায়োরিটি স্টেট।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এসে রাত কাটাচ্ছেন বাংলার গ্রামাঞ্চলে। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে বাংলার সংঠনকে চাঙ্গা করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরবিন্দ মেননকে। যিনি একেবারে আরএসএস থেকে উঠে আসা নেতা হিসেবেই পরিচিত। যা দেখে অনেকেই বলছেন, বঙ্গ বিজেপির কন্ট্রোল এখন পুরোপুরি আরএসএস-এর হাতে। বাংলায় সাংগঠনিক মতাদর্শকে মহল্লায় মহল্লায় পৌঁছে দিতে মেনন আবার স্লোগান দিয়েছেন, ‘ঝোপড়ি ঝোপড়ি মে জায়েঙ্গে, খোপরি খোপরি মে ইঞ্জেকশন দেঙ্গে।’

যদিও বাংলার শাসক দলের নেতারা বিজেপি-র এই কর্মসূচিতে খুব একটা আমল দিচ্ছেন না। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তো বলেই দিয়েছেন, “কে অরবিন্দ মেনন! চিনিই না।” তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “এটা উত্তরপ্রদেশ নয়। এটা বাংলা। যোগী আদিত্যনাথ আসা মানেই এটা উত্তরপ্রদেশ হয়ে গেল না। আর সংগঠনই নেই, তাঁদের আবার রথযাত্রা! সে তো কত লোকই গাড়ি করে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ ঘুরতে পারে।”
এদিকে, আগামী ১৬ নভেম্বর নেতাজি ইন্ডোরে ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভা করবে তৃণমূল। ১৯ জানুয়ারি সমাবেশকে পাখির চোখ করে একেবারে নিচু স্তর পর্যন্ত প্রচার পৌঁছে দিতে জেলার নেতাদের গাইডলাইন বেঁধে দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবারই তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘উৎসব শেষ। এ বার ব্রিগেডের প্রস্তুতি শুরু।’ ফলে যত শীত পড়বে ততই গরম হতে শুরু করবে বাংলার ভোট প্রচারের ময়দান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*