রানাঘাটে ভোটকর্মী নিগ্রহের প্রতিবাদে এবিটিএ-র ডেপুটেশন, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ ভোটের দাবিতে জোরালো অবস্থান

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক, নদীয়া :

রানাঘাটে এক ভোটকর্মীর ওপর হামলা এবং তাঁর পরিবারকে লাগাতার হুমকির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল এবিটিএ নদিয়া জেলা। এই প্রেক্ষিতে জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও জেলা শাসকের নিকট এক প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন দেয়। তাঁদের মূল দাবি—সমস্ত ভোটকর্মীর পূর্ণ নিরাপত্তা, ভয়মুক্ত পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ভোটিং মেটেরিয়ালস বণ্টন ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় হয়রানি বন্ধ এবং সব বুথে সমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোট প্রক্রিয়া ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। তারই মধ্যে রানাঘাটে ভোটকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়ে। এবিটিএ-র অভিযোগ, শুধু হামলাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নেই—আক্রান্ত কর্মীর পরিবারকেও লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এই পরিস্থিতিতে এবিটিএ নদিয়া জেলা কমিটি সরাসরি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। ডেপুটেশনে তাঁরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন—

ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা: মাঠে কাজ করা প্রতিটি ভোটকর্মীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভয়মুক্ত ভোটের পরিবেশ: ভোটার ও কর্মী—উভয়ের জন্যই চাপমুক্ত, স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

ডিসি ও আরসি-তে হয়রানি বন্ধ: ভোটের আগে ও পরে ডিসট্রিবিউশন সেন্টার (DC) ও রিসিভিং সেন্টার (RC)-এ কর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া চালু করার দাবি জানানো হয়।

সকল বুথে সমান নিরাপত্তা: সাধারণ ও স্পর্শকাতর বুথের বিভাজন না করে প্রতিটি বুথেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়।

ভোটদানের সুযোগ: কর্মরত ভোটকর্মীদের নিজস্ব ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করার কথাও জোর দিয়ে বলা হয়।


ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সম্পাদক সৌমেন পাল, রাজ্য সহসভাপতি সৌমেন অধিকারী সহ অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট—এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর নিরাপত্তা ঘাটতির ইঙ্গিত বহন করছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কতটা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপ ও স্থানীয় উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রানাঘাটের এই ঘটনা শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার সমস্যা নয়—এটি গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। এবিটিএ-র এই ডেপুটেশন সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এখন নজর প্রশাসনের দিকে—তারা কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই নির্ধারণ করবে আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ কতটা স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্য হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*