রোজদিন ডেস্ক : সদ্য মেঘভাঙ্গা বৃষ্টিতে উলটপালট হয়ে গিয়েছিল শহর কলকাতা। জলে ডুবেছিল রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি। এই দুর্যোগে ১১ জন সহ-নাগরিকের প্রাণহানি হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই জমা জলে বিদ্যুৎপুষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তাদের দেওয়ার কথা ঘোষণা করে গোটা ঘটনার দায় ঠেলে দিয়েছিলেন সিইএসসি-র থেকে। তবে দায় যারই হোক, ওই ঘটনা থেকে কেউই যে শিক্ষা নেয়নি, তার প্রমাণ মিলল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। ফের জমা জলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন আর একজন কলকাতাবাসী। এবারের ঘটনাস্থল বেহালার সরশুনা। সরশুনার ক্ষুদিরাম পল্লীতে শনিবার সকালে নিজের দোকানের শাটার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হন সুমন্তী দেবী (৬২)। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমা জলে দাঁড়িয়ে শাটার খুলছিলেন তিনি। তখনই কোনওভাবে দোকানের দরজা বিদ্যুতের স্পর্শে চলে আসে। তা বুঝতে পারেননি সুমন্তী দেবী। ঘটনা বুঝতে পেরে তাঁকে বাঁচাতে ছুটে যান আরও দু’জন। কিন্তু, তাঁরাও বিদ্যুতের সংস্পর্শে চলে আসেন এবং জখম হন। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি সুমন্তী দেবীকে। পুজোর মুখে শোকের ছায়া গোটা এলাকায়। ঘটনার পরই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। জমা জলে হাঁটতেও এখন ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। বলছেন, কখন কী অঘটন ঘটবে কেউ জানে না। ফলে কার্যত ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে হুঁশ ফিরবে প্রশাসনের। সরকারি তরফে মৃতের পরিবারের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও আর্থিক সাহায্য বা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়নি।

Be the first to comment