রোজদিন ডেস্ক: গাড়ির জ্বালানি হিসেবে মোদি সরকার বাজারে এনেছে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ই-২০। এই কয়েকদিনেই যা নিয়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে আম জনতার। রবিবার এর প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর
মন্তরে ধরনায় বসেছে টিম ভারত নামের একটি সংগঠন। কংগ্রেসও এর জন্য মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। এই আবহে কলকাতায় রবিবার থেকেই শুরু হল ই-২০ পেট্রোলের বিক্রি। এদিন প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই ঘোষণা করেন ইন্ডিয়ান অয়েলের কর্তা কুশল বাজোরিয়া। তিনি এই নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, এতে গাড়ির কোনও ক্ষতি হবে না। পরিবেশ দূষণ কমবে। পেট্রোল আমদানিও কমবে। ফলে বাঁচবে বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা। আপাতত কলকাতার ল্যান্সডাউন, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, রাজারহাট, কসবা ও রবীন্দ্র সদন এলাকার কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে মিলবে ই-২০ পেট্রোল।
এদিকে ই-২০ পেট্রোল চালু করে বিপাকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। জোর করে এই নতুন জ্বালানি চালু করে দেওয়ায় দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এর প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনায় বসে ‘টিম ভারত নামে একটি সংগঠন। তারা বলছেন, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিরোধিতা করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং পর্যাপ্ত বিকল্পের ব্যবস্থা না করেই ই-২০ পেট্রোল বাজারে আনা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা। বিরোধীদের একাংশের আবার দাবি, পেট্রোলে ইথানল মেশানোর কৌশল আসলে মোদি সরকারের আর এক বড়সড় দুর্নীতি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, এই ই- ২০ পেট্রোলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতা, মন্ত্রীরা নিজেদের পকেট ভরছেন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকরিই গোটা ঘটনার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন। কারণ, তার ছেলেদের সংস্থাই নাকি ইথানল সরবরাহের বড় বরাত পেয়েছে।
দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে বহুদিন ধরেই ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। আগামী দিনে স্রেফ ইথানলের ভরসাতেই গাড়ি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ভিনদেশ থেকে আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমাতেই ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এই ইথানল নিয়ে এর মধ্যেই অভিযোগের পাহাড় জমেছে। গ্রাহকদের একাংশের অভিযোগ, ইথানলের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাইলেজ কমে যাচ্ছে। এমনকী বহু গাড়িতে এই পেট্রোল ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে নতুন গাড়ি কিনতে হচ্ছে।

Be the first to comment