রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বিজেপি বাংলায় ভূতুড়ে ভোটারদের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়। এমনই অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। তাদের দাবি, বিজেপির এই প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে চেষ্টা করবে তারা। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে দলের জেলা সভাপতি, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসি।
গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত কোর কমিটির সদস্যরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তবে এদিনের বৈঠকে ছিলেন না শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সাংসদ সাগরিকা ঘোষ।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে মূলত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা ও আগামী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, দলের তরফ থেকে পাঁচ দফা নির্দেশিকা জারি করা হয়, যাতে ভোটার তালিকার কারচুপি রোধ ও ভূতুড়ে ভোটারদের চিহ্নিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে এই পাঁচ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি একটি এপিক নম্বরে ভিন্ন ভিন্ন নাম পাওয়া যায়, তবে সেগুলি আলাদা করে নথিভুক্ত করতে হবে। এবং যাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই, এমন নামগুলিকে ভোটার তালিকা থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়াও রাজ্যের সমস্ত বিধানসভার প্রতিটি বুথের ভোটার তালিকায় স্কুটনি চালাতে হবে এবং প্রত্যক্ষভাবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পাশাপাশি, অনিয়ম বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের ফের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এবং যাঁরা অনলাইনের মাধ্যমে নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে।
অন্যদিকে, বৈঠকে দলের নেতারা ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে কৌশল ঠিক করা হয়। সূত্রের খবর, শনিবার থেকে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে বড়সড় অভিযান শুরু করতে পথে নামতে চলেছে তৃণমূল। এই ইস্যুতে আরও বেশি করে ময়দানে নামার নির্দেশে বলা হয়েছে ব্লক, জেলা, পঞ্চায়েত ও শহরস্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার যাচাই করা হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি কমিটি সদস্যকে তিনটি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে তারা ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করবেন। এই ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজটি ১০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে প্রত্যেক জেলায় এই কাজের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। এই কমিটিতে থাকবে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, চেয়ারম্যান, বিধায়ক, সাংসদ, জেলার শাখা সংগঠনের সভাপতি, ব্লক আর টাউনের সভাপতিরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, পুরসভার চেয়ারম্যানরা ৷
প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ মার্চ এই সংক্রান্ত বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করবেন, যেখানে তৃণমূলের সমস্ত জেলা সভাপতি ও কোর কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

Be the first to comment