রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- অপারেশন সিঁদুরের পর প্রথমবার বাংলায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে রাজনৈতিক সভায় অংশ নিয়ে রাজ্যে তৃণমূল সরকারকে বিঁধলেন তিনি। ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙচুর সহ দুজনকে বাড়িতে ঢুকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ উঠেছিল পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার। এনিয়ে এদিন সরব হন নমো। মোদি বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ ও মালদায় যা হয়েছে তা এখানকার সরকারের নির্মমতার উদাহরণ। বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। পুলিশ তামাশা দেখছে।’ বঙ্গে মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও এদিন তোপ দাগেন মোদি। সেই সঙ্গে রাজ্যের টালমাটাল শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও এদিন সরব হন তিনি। বলেন, ‘আজ পশ্চিমবঙ্গ নানা সংকটে জেরবার। বাংলায় হাজার হাজার শিক্ষকের কেরিয়ার বরবাদ। পশ্চিমবঙ্গে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা বরবাদ হয়েছে এই সরকারে আমলে। গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।’ মোদি বলেন, ‘আজ তুষ্টিকরণ, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি থেকে মুক্তি চান বাংলার মানুষ।’
এদিনের বক্তব্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প যেমন আলিপুরদুয়ারে সিটি গ্যাস প্রকল্প অথবা কল্যাণী এমইস এইসব উন্নয়নের কথা তুলে ধরলেন মোদি।
এদিন নমো বাংলার শাসকদলকে কটাক্ষ করে বলেন, শাসকদলের গরিবদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার সংকট হলো বড় সংকট। মানুষকে তার অধিকার সুরক্ষার জন্য বারবার কোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়। এখানকার জনতার একমাত্র ভরসা আদালত।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তিনি স্লোগান তুললেন, ‘বাংলায় মোদি জি কি পুকার নেহি চাইয়ে নির্মম সরকার।’
দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে শিক্ষক নিয়োগে রাজ্যের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু যে কিছু শিক্ষকের জীবন বরবাদ হয়েছে তাই নয় পশ্চিম বাংলার পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই বরবাদ হয়ে গেছে’। এত বড় পাপ তৃণমূল সরকার করেছে অথচ আজও এরা নিজেদের দোষ স্বীকার করতে রাজি নয়। নিজেদের দোষ লুকাতে অন্যদের ওপর দোষারোপ করছে টিএমসি সরকার।
চা বাগানের দূর্নীতি কথা বলে তিনি বলেন, ‘এখানে সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে চা বাগান গুলো ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মজদুরদের হাত থেকে কাজ চলে যাচ্ছে, প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে অসুবিধা’। আমি একথা বলি বিজেপি এটা হতে দেবে না।
রাজনীতি আলাদা ব্যাপার কিন্তু গরিব দলিত পিছিয়ে পড়া আদিবাসী মহিলাদের তৃণমূল কংগ্রেস কেন শত্রুতা করছে তাদের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প গুলোর ফায়দা আমাদের বাংলার মা ভাই বোনেরা পাচ্ছেন না। আয়ুষ্মান ভারতের সুযোগ বাংলার সরকার রাজ্যবাসীকে পেতে দিচ্ছেন না। নমো বলেন, ‘আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে ৭০ বছরের ওপরে সমস্ত বয়স্ক মানুষ বিনা পয়সায় আয়ুষ্মান ভারতে চিকিৎসা পান, কিন্তু তৃণমূল সরকার তা হতে দিচ্ছে না’।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রচুর লোক বাড়ি পাচ্ছেন কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল আবাস যোজনার টাকা পর্যন্ত কাট মানি খাচ্ছে। টিএমসি আদিবাসীদের বঞ্চনার মধ্যে রাখতে চায়। তাদের উপেক্ষা করতে চায়। বাংলায় বাড়ি জ্বালানো হয়েছে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে তামাশা দেখেছে।
নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতার অনুপস্থিত নিয়ে মোদি বলেন, ‘নীতি আয়োগের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বাংলার সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বৈঠকে উপস্থিতি থাকলেন না। বিগত এই বৈঠকে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা প্রতিনিধিরা মিলে আমরা সবাই মিলে আলোচনা করলাম’।
প্রতিবেশী যেসব রাজ্যে বিজেপি সরকার সেখানে উন্নয়ন দ্রুত গতিতে হচ্ছে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সব পরিবারকে সুরক্ষা সুশাসন ও সমৃদ্ধির আশ্বাস দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের পুরনো গৌরব অর্থাৎ হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা আমরা সবাই মিলে করব। দুর্নীতি কুশাসন তোষণ এই সব থেকে পশ্চিমবাংলাকে মুক্ত করতে হবে।

Be the first to comment