বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভে সংসদে বিভি জি রামজি বিল গৃহীত

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : সম্মিলিত বিরোধী পক্ষের তুমুল বাধা দান, হৈ হট্টগোলের মাঝেই আজ সংসদে ধ্বনি ভোটে গৃহীত হল বিতর্কিত ভিবি জি রামজি বিল। এই বিল গৃহীত হওয়ার পরই আজ সারাদিনের মত লোক সভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়।
আজ সকাল থেকেই এই বিল নিয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে প্রবল উত্তেজনা ছিল। নয়া এই গ্রামীণ রোজগার যোজনায় শুধু যে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ গেছে তাই নয়, কেন্দ্রর বরাদ্দ এক লপ্তে কমিয়ে দেওয়া ও হয়েছে। বৃদ্ধি করা হয়েছে রাজ্য সরকারগুলির বরাদ্দও। গত কয়েকদিন ধরেই এই সব নিয়ে সংসদ উত্তাল ছিল। কংগ্রেস সহ বিরোধী পক্ষ এই বিল প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি করেন। তা ফুৎকারে উড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আজ এই বিল পাস করিয়ে নেয় কেন্দ্র।
কলকাতায় শিল্পপতিদের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সাবেক মনরেগা প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এতে তিনি ব্যথিত। “লজ্জা হচ্ছে, জাতির জনককে ভুলে যাচ্ছি আমরা! ” এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কর্মশ্রী প্রকল্পের নাম বদলে মহাত্মা গান্ধীর নামে করার সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
দিল্লিতে আজ কেন্দ্রের এই নয়া বিল নিয়ে সকাল থেকেই সংসদ চত্বর সরগরম ছিল।।মহাত্মা গান্ধীর ছবি সহ বিশাল ব্যানার নিয়ে বিরোধী সাংসদরা সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান।
অধিবেশন শুরু হলে তাঁদের অনেকে মহাত্মা গান্ধীর ছবি নিয়ে ওয়েলে নেমে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। বিলের প্রতিলিপিও ছিঁড়ে ফেলা হয়। বিক্ষোভে উত্তাল হয় লোকসভা।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের সঙ্গে তীব্র বাগযুদ্ধে জড়ান কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, বর্তমান সরকারের নাম বদলের বাতিক আছে। এর পালটা কৃষিমন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসই সব প্রকল্পের নাম বদলে নেহরুর নামে রেখেছিল।

এমন কি ভোটের কথা মাথায় রেখেই ২০০৫ এ চালু হওয়া এই প্রকল্পের নাম ২০০৯ সালে বদলে গান্ধীজির নামে করা হয়। উভয় পক্ষে এই সব নিয়ে জোর বাদ বিতন্ডা বাধে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প থেকে জাতির জনকের নাম বাদ দিয়ে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। সরকারের পালটা দাবি, তাঁরা গান্ধিজিকে সম্মান করেন।
প্রবল গোলমাল, হৈচৈ এর মধ্যেই “বিকশিত ভারত, গ্যারান্টি ফর রোজগার এন্ড আজীবিকা মিশন, সংক্ষেপে ভি বি জিরামজি! নয়া প্রকল্পে আগের ১০০ দিনের কাজ বদলে ১২৫, দিনের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও তা কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। তাঁরা বিলটি সসংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর দাবি করেন। যথাযথ আলোচনা ছাড়াই তা পাস করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
শুক্রবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিন। রাজ্যসভাতেও এই বিল তড়িঘড়ি পাস করানো হবে বলে বিরোধী পক্ষ মনে করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*