রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে নির্বাচনী নির্ঘন্ট ঘোষণার আগে চলতি সপ্তাহ থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে। দু-দফায় ৪৮০ কোম্পানির মধ্যে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ধাপে ধাপে এই সপ্তাহ থেকেই আসছে বলে প্রকাশ। কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে ইতিমধ্যে তার রূপরেখা ও নির্বাচন কমিশন ঠিক করেছে। সূত্রের খবর, সব থেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন হবে উত্তর ৩৪ পরগণায় ৩০ কোম্পানি। সব থেকে কম থাকবে পাহাড়ের কালিম্পং-এ ৩ কোম্পানি।
জেলাভিত্তিকভাবে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। উত্তর ২৪ পরগণার পর সব থেকে বেশি এই বাহিনী পাবে সীমান্ত জেলা মুর্শিদাবাদ ১৬ কোম্পানি। এরপর আছে হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা।
আরেক সীমান্ত জেলা মালদা ও কলকাতায় থাকবে ১২, কোম্পানি করে। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর পাচ্ছে যথাক্রমে ১৪ কোম্পানি ও ৭ কোম্পানি।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যের অর্ধেকের বেশি বুথ ই স্পর্শ কাতর ও অতি স্পর্শ কাতর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৪৩ হাজার বুথ স্পর্শ কাতর। অতি স্পর্শ কাতর হিসাবে ৭ হাজার বুথ কে গণ্য করা হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। মূলত স্পর্শ কাতর ও সীমান্ত বর্তী জেলা গুলিতে এই বুথ চিহ্নিত করা হয়েছে। দুই ২৪ পরগণা, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া,বীরভূম, উত্তর দিনাজপুর, হুগলির একাংশে এই সব বুথ আছে। এবার নজিরবিহীন ভাবে
নির্বাচিনী নির্ঘন্ট ঘোষণার আগেই যেভাবে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে, এতে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। ভোটমুখি পাঁচ রাজ্যের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার নিরিখে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্র এই রাজ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
এসআইআর প্রসঙ্গঃ অন্যদিকে রাজ্যে এসআইআরের কাজ নিয়ে আজও কলকাতা উচ্চ আদালতে পর্যালোচনা বৈঠক হয়। মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, ডি জি পীযুষ পান্ডে, সিপি সুপ্রতিম সরকার, রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হবে না। পয়লা মার্চ থেকেই তাঁরা এলাকা ভিত্তিক রুট মার্চ করবেন। জেলাশাসক, এসপি-রা প্রয়োজনে এই বাহিনীকে ব্যবহার করবে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক হিংসা যাতে না বাড়ে কমিশন সেদিকে নজর রাখছে বলে জানা যায়। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে অবধি আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ভার রাজ্যের হাতেই থাকবে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষভাবে করতে কমিশন বদ্ধপরিকর বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে আমজনতার মনেও এখন চাপা উত্তেজনা।

Be the first to comment