রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যের নতুন সরকার দুর্গা পুজোয় এক লক্ষ টাকা অনুদান দেবে৷ তবে বড় পুজোগুলি যাতে এই টাকা না নেয় এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুরোধ করেছেন। এই ক্ষেত্রেও যাদের প্রয়োজন, তেমন পুজো কমিটিগুলিকেই সরকারি অনুদান দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
এর পাশে সাফ জানিয়ে দেন, মহালয়ার আগে কোন পুজো উদ্বোধন করা যাবে না। হবে না কার্নিভাল, বিসর্জনে বাজবে না ডিজে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গত কয়েকবছর ধরে রাজ্যের পুজো কমিটি গুলিকে অনুদান দেওয়া চালু করেন। তাঁর লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের মত এই ক্ষেত্রে ও সব বড়, মাঝারি, ছোট সব পুজো কমিটি ই অনুদান পেতেন। মুখ্যমন্ত্রী আগে জানিয়েছিলেন, যাদের দরকার তাদেরই এই অনুদান দেওয়া হবে। আজ তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চান না৷ বড় পুজো কমিটিগুলিকে তাঁর অনুরোধ, তাঁরা যেন এই অনুদান না নেন।
প্রসঙ্গত, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের বড় বাজেটের পুজো প্রাক্তন সরকারের আমলে এই অনুদান নিতো না।
আপামর বঙ্গবাসীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো যাতে তার সাবেকি ঐতিহ্য বজায় রেখে হয়, তার ইঙ্গিত মেলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তিনি জানান, মহালয়ার আগে পুজো উদ্বোধন নয়। হবে না কার্নিভালও।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জন্য কার্নিভাল চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হোত।
আজ শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, এবার থেকে পুজোয় কার্নিভাল বন্ধ। মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেনে নানা বর্ণময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজোর সূচনা হবে।রাজ্যের ঐতিহ্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে আমন্ত্রণ করবেন।
আজ মিলন মেলা প্রাঙ্গণে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পুজো কমিটি গুলিকে নিয়ে বৈঠক ঘিরে বিভিন্ন মহলে কৌতুহল ছিল। সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উনি যা করতেন তা ঠিক নয়। উনি বলতেন, আগে কত দেওয়া হয়েছিল? এবার তবে এক লাখ!! যা মাছের বাজারে করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগের আমলে পুজো অনুদান গতবার বেড়ে এক লক্ষ দশ হাজার করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, ভোটে এতে লাভ হয়নি। অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অষ্টমীর দিন রাজ্যে সব মদের দোকান বন্ধ থাকবে। পানশালাতেও মদ বিক্রি করা যাবে না। পুজোয় ডিজে বাজানো যাবে না। কিছুটা কড়া সুরে তিনি বলেন, মহরমের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানো, অস্ত্র নিয়ে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। সবার সহযোগিতা নিয়েই তা হয়েছে৷
পুজোতেও সবাই এই সব নিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে তাঁর আশা।
অন্যবারের মত পুজো কমিটিগুলিকে বিদ্যুৎ সহ সুযোগ-সুবিধাগুলিও দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
প্রতিমা, মন্ডপ নির্মাণেও তাঁরা যে সাবেকিয়ানার পক্ষে তার ইঙ্গিত মেলে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিমা, মন্ডপ তৈরিতে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ঐতিহ্যে আঘাত লাগে এমন কিছু না করাই ভাল।
২৫ অক্টোবর লক্ষ্মী পুজো। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, পঞ্জিকা মেনে নিরঞ্জন হয়। নিজের ইচ্ছা মত হয় না। তবে তাঁরা কিছু চাপিয়ে দিতে চান না।
জাতীয় সড়ক আটকে পুজো করা চলবে না বলেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মহালয়ায় চার ঘন্টার কর্মসূচিতে ড্রোন, আতসবাজির প্রদর্শনী হবে।
উল্লেখ্য, তিন হাজার ড্রোন উড়িয়ে আকাশে আলোর দুর্গা প্রতিমা প্রদর্শনের ভাবনা আছে সরকারের। দিঘাতে ও পর্যটন দফতর পুজো উপলক্ষে অনুষ্ঠান করবে৷ আমজনতার প্রস্তাব মেনে দিব্যাঙ্গ, বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা হবে।
দেওয়া হবে শারদ সম্মান ও।
পুজোয় সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে, কারও অসুবিধা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে উৎসব পালিত হোক, এই বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Be the first to comment