রোজদিন ডেস্ক : বছর শেষ হতে এখন ও তিন মাস বাকি। ইতিমধ্যেই আগামী বছর গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন এর ঢাকে কাঠি পড়েছে। মূল যুদ্ধ শাসক টিএমসি বনাম বিজেপির হলেও ময়দান ছাড়বে না বামফ্রন্ট, কংগ্রেসও। আছে ISF ও। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে একটিও আসন পায়নি বামফ্রন্ট, কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোট করেও শূন্য হাতেই ফিরেছে তারা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই দুই দলের জোট থাকবে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানা যায়, রাজ্যে বামেদের হাত আর ধরতে নারাজ কংগ্রেস। ওপর মহলও তাই চায়। অধীর চৌধুরী-সহ কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা আগের মত বামেদের হাত ধরতে চাইলেও বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভংকর সরকার তা চান না। দলের হাই কমান্ডও এবার বামেদের হাত ছেড়ে রাজ্যের শাসক দলের হাত ধরার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রকাশ।
বামেদের অন্দরেও এই নিয়ে মতভেদ আছে। তাঁদের সিংহভাগই এককভাবে লড়তে চান।
কংগ্রেস বা ISF কারও সঙ্গে জোট না করে নিজেদের মত নির্বাচনে লড়তে চান তাঁরা। যদিও সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব এখনও কংগ্রেসের সঙ্গেই চলতে আগ্রহী।
প্রসঙ্গত ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোর লড়াই করে ক্ষমতায় আসে বামফ্রন্ট। তাদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনে ও কংগ্রেসের বহু কর্মী সমর্থক নিহত, আহত, ঘরছাড়া হন। টিএমসি-র কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার পর আচমকাই বামফ্রন্ট, বিশেষত সিপিএম ও কংগ্রেস কাছাকাছি আসে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আসন বন্টন হয়। যদিও তথ্যভিজ্ঞ মহল মনে করেন, কংগ্রেসের কট্টর সমর্থকরা কখনোই সিপিএম-কে ভোট দেননি, ভবিষ্যতেও দেওয়ার আশা কম। সিপিএম সমর্থকরা অবশ্য দলের নির্দেশ মেনে কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দেন, তাঁদের হয়ে আপ্রাণ প্রচারও করেন। এবার কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব চান বামেদের হাত ছেড়ে রাজ্যের শাসক দলের হাত ধরতে। এতে অন্তত শূন্য হাতে ফিরতে হবে না দলকে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি হবে সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

Be the first to comment