রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- ২৭ বছর পরে দিল্লির মসনদে প্রত্যাবর্তন বিজেপির। আর সেই প্রত্যাবর্তনে অন্যতম ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠল কেজরিওয়ালের ‘একলা চলো’ নীতি। উল্লেখ্য, হরিয়ানাতেও আপ-কংগ্রেসের জোট ভেস্তে যাওয়ায় কংগ্রেসের প্রচুর ভোট কেটেছিল আপ। এবার দিল্লিতে তারই প্রত্যাবর্তন দেখাল ‘হাত’ শিবির।
কেজরিওয়ালের জোট না করার মানসিকতাই হয়ে উঠল আপের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অবশ্য শুধু ‘হাত’-এর হাত ধরাই নয়। এআইএমআইএমও কোনও কোনও কেন্দ্রে আপের ভোটকাটুয়া হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রথমে মনে করা হচ্ছিল কংগ্রেস হয়তো জোট বাঁধবে আপের সঙ্গে। কিন্তু এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রের দাবি ছিল, কংগ্রেসকে ১৫টি আসন দেবে আপ। সেই সঙ্গেই অন্য দলগুলিকে দেবে আরও ১ থেকে ২টি আসন। বাকিগুলিতে লড়বে ‘ঝাড়ু’ শিবির। কিন্তু খোদ কেজরিই এরপর তাঁর এক্স হ্যান্ডল পোস্টে লেখেন, ‘আম আদমি পার্টি দিল্লির এই নির্বাচনে নিজের শক্তি অনুযায়ী একলাই লড়বে। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বাঁধার কোনও সম্ভাবনাই নেই।’ শেষপর্যন্ত তাই হয়। আপ একা লড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল হরিয়ানাতেও। সেখানেও ‘ঝাড়ু’ শিবির ও ‘হাত’ শিবিরের জোট বাঁধার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা আলাদা আলাদা করেই লড়ে ভোটে। আর সেক্ষেত্রে বহু কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট কেটে নেয় আপ।
এরপরই দেখা যায়, কেজরিওয়াল যে ১১টি কেন্দ্রে প্রচারে গিয়েছিলেন সেখানেও আপ শূন্য হাতে ফিরেছে বটে। কিন্তু ভোট পেয়েছে প্রচুর। শেষপর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও কয়েকটা আসনে বিরাট পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল। বিজেপি এগিয়ে/জয়ী ৪৮ আসনে। আপ সেখানে সব মিলিয়ে ২২! কংগ্রেসের বড়জোর একটি আসনে জেতার ইঙ্গিত করেছিল এক্সিট পোল। কিন্তু, কংগ্রেসের ভাগ্যে জুটলো না একটি আসনও।
কিন্তু ভোট শতাংশের দিকে তাকালে বিজেপি পেয়েছে ৪৫.৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, আপ পেয়েছে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, কংগ্রেস পেয়েছে ৬.৪ শতাংশ ভোট। এখন কংগ্রেসের ভোট আপের সঙ্গে যোগ হলে ৫০ শতাংশ ভোট হয়ে যেতো জোটের। সেক্ষেত্রে খুব সহজেই বেরিয়ে যেতে পারত আপ – কংগ্রেস জোট। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেছেন, মানুষ বদল চেয়েছে। কিন্তু সংখ্যাতত্ব সেই কথা বলে না।
রাজনৈতিক মহলে একদিকে অভিযোগ উঠছে যে আপকে হারিয়ে দিল কংগ্রেস। অন্যদিকে, এমনটাও অভিযোগ উঠছে আম আদমি পার্টি জেদ ধরে থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেনি। ফলে দিল্লিতে বিজেপির চলে আসার দায় কংগ্রেস ও আপ-দুপক্ষেরই। জাতীয় স্তরে বলা হচ্ছে বিজেপিকে হারাতে পারে একমাত্র ইন্ডিয়া জোট। এখন এই যদি অবস্থা হয় তাহলে কোথায় জোট। ফারুক আবদুল্লা বলেছেন, নিজেদের মধ্যে এভাবে লড়াই করতে থাকলে প্রতিপক্ষ জয়ী হতেই থাকবে।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলে থাকেন যে রাজ্যে যে শক্তিশালী সেখানে তাকে সাহায্য করা উচিত কংগ্রেসের। দিল্লিতে সেই ফর্মুলা মানেনি রাহুল গান্ধীরা। দিল্লিতে আপ ২২ আসন পেয়ছে। কিন্তু কংগ্রেস সমঝোতা না করে কী সুবিধে পেয়েছে? দিল্লিতে এবার তারা শূন্য। নয়া দিল্লি আসনে কেজরিওয়াল হেরেছেন ৪০৭৯ ভোটে। ওই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৪৫৬৮ ভোট। কংগ্রেসের ওই ভোট কেজরি পেলে মান রক্ষা হত আপের। ফলে গোটা বিষয়টি গিয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই আসন সমঝোতার উপরেই। তাই এই ভোটে একে অন্যকে টেনে নামানো ছাড়া আর কিছুই হল না। সুতরাং ‘দিল্লিতে দোস্তি, দিল্লিতেই কুস্তি’ আর সেই সুযোগেই বেরিয়ে গেল বিজেপি।

Be the first to comment