এ লজ্জা কার, কলকাতার বুকে শিক্ষিকা চড় কিল ও অভিভাবকদের লাঞ্চনার শিকার; পড়ুন!

Spread the love

কিছু ছবি যা মিডিয়া ও সোস্যাল মিডিয়ায় সৌজন্যে আজ হয়তো সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে প্রত্যেক কোনে, লজ্জায় আমরা আঁতকে উঠছি। চলছে দায়ভার চাপানো ও নামানোর প্রচেষ্টা। কিন্তু খোদ আমরা যাকে কিনা ভারতের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির রাজধানী বলে দাবি করি,সেই তিলোত্তমা কলকাতার বুকে আজকের ওই বিদ্যালয়ের ঘটনা এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ লজ্জার। দেবীশক্তি নারীশক্তি বলে হুজুগে বাঙালি আর কয়েকদিন পরেই মেতে ওঠবে মা দূর্গার আরাধনায়। সেখানে কয়েকজন মহিলার হাতে সম্ভবত অভিভাবিকা, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার লাঞ্ছনা ও চড় কিল ঘুসির সামনে তার কাতর আবেদন আমাদের বিবেক কে আজ নাড়া দেয় না। আমরা মেধার চাষ করতে গিয়ে কিংবা প্রতিযোগিতার গোলকধাঁধায় আজ এতো অসহিষ্ণু, যে ভুলতে বসেছি শিক্ষিকা সমাজের মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর আজও, জনমানসে তার নির্যাতন আমাদেরই ছোটো করবে কচিকাঁচাদের কাছে সম্মান দাবি করার সময়। বিনোদিনী গার্লস স্কুলের ওই শিক্ষিকা রূপা দেবী তো আমাদের সমাজের অংশ, কারও বোন, স্ত্রী কিংবা মা অথবা সেও একজন অভিভাবিকা।

আজ ৫ বছরের বাচ্চার সাথে নির্যাতনের জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক অ্যারেস্ট হয়েছেন, তাৎক্ষনিক। এ ঘটনা লজ্জার, চরম লজ্জার শিক্ষক জাতির কাছে, সমাজের কাছে, যদি ঘটনাটা সত্য হয়। এইভাবে অনেক সময় মিথ্যা ফাঁসিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসছে, যা শিক্ষকসমাজকে তাদের সন্তানতুল্য ছাত্র ছাত্রীদের থেকে করেছে দূর। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের পরেও এক শ্রেনীর অভিভাবক বা হয়তো কোনো শক্তির উসকানিমূলক আচরনে শহর কলকাতায় তারপর যা ঘটল এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। পুলিশের উপর আক্রমণ, লাঠিচার্জ একজন অভিভাবিকার রক্তাক্ত মুখ সবই বেদবাবহ এবং শিক্ষাঙ্গনে কাম্য নয়। তবুও দিনের শেষে ওই শিক্ষিকার ছেড়ে দেওয়ার,আর তাকে লাঞ্চিত না করার কাতর আবেদন আজ আমাদের সমাজের অসহিষ্ণুতা কে সামনে এনেছে। কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া এই লজ্জাজনক ঘটনার দায়ভার ও লজ্জা আমার, আপনার সবার এবং সর্বোপরি সমাজের।

দেখুন ভিডিও- 

 

 

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*