রোজদিন ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে ছোট-বড় সমস্ত দুর্গাপুজোকে এক ছাতার তলায় তুলে ধরার উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ‘দুর্গাপুজো সমন্বয় সমিতি’। সমিতির প্রধান উদ্যোক্তা রুদ্রনীল ঘোষের দাবি, এতদিন পুজোর গুরুত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজেট ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পুজোই বেশি গুরুত্ব পেত। সেই ধারণা বদলেই ছোট ও আন্তরিক পুজোগুলিকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “এই সমিতির উদ্দেশ্য ছোট, আন্তরিক পুজোগুলিকে তুলে ধরা। এতদিন কিছু হোমরাচোমরাদের পুজোকেই পুজো বলে তকমা দেওয়া হত। কার কত বাজেট, তা দেখে পুজোর গুরুত্ব নির্ধারণ করা হত। কলকাতায় বহু পুজো হয়, রাজ্যেও বহু পুজো হয়। তা সত্ত্বেও মাত্র কয়েকটি পুজোকেই গুরুত্ব দেওয়া হত।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রাম, রাজ্য, দেশ, বিদেশ—মা যেখানে যাবেন, আমরা সেখানেই পৌঁছে যাব। সবাইকে একসঙ্গে জুড়ব।” ইতিমধ্যেই সমিতির পক্ষ থেকে একটি লোগো লঞ্চ ও dpssinfo.com নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পুজোর তথ্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত বেশি সম্ভব পুজোকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রুদ্রনীল ঘোষ জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন সমিতির সদস্য হয়েছেন। তাঁর দাবি, “আজকেই সংখ্যাটা হাজারের কাছাকাছি হয়ে যাবে।” আরও পুজো উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে দুর্গাপুজোর বার্তা পৌঁছে দিতে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের পরিকল্পনার কথাও জানান রুদ্রনীল। তাঁর কথায়, “বিশ্বময় যাতে বার্তা ছড়াতে পারি। আমরা সব পুজোর লাইভ স্ট্রিমিং দেখব।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ভিআইপি পাস বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্য উপদেষ্টা রুদ্রনীল বলেন, ভিআইপি পাস বা কার্ডের নামে কোটি কোটি টাকা তুলছেন অনেকে শুনতে পাই। যা অত্যন্ত বেদনার। এই নিয়ে ভালোমন্দ কিছুই বলতে চাই না। যা বলার বাংলার মানুষ বলবেন। তবে এবার কোনও পাস বা কোনও টিকিটের বিনিময়ে এক টাকারও লেনদেনের বন্দোবস্ত নেই। আমরা প্রথম থেকেই ঘোষণা করছি পুজোর নামে একটা পয়সাও লেনদেন হবে না।” তাঁর মতে, ভিআইপি বলতে শুধু নেতামন্ত্রী নন। বরং দরিদ্র, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা থেকে অসুস্থ কেউ, সমাজকর্মী, চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, দমকল কর্মী সকলেই ভিআইপি।

Be the first to comment