জল্পনার অবসান। কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার, বেলা একটা কুড়ি মিনিট নাগাদ শোভনের নিরাপত্তারক্ষীরা দুটি গাড়িতে চেপে গোলপার্কের আবাসন থেকে রওনা দেন পুরসভার উদ্দেশে। বেলা একটা পঞ্চান্ন নাগাদ চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন শোভন। সে দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন, বুধবারই হয়তো মেয়র পদ ছেড়ে দেবেন শোভন। সেই মতো ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও পুর কমিশনার খলিল আহমেদ এবং মালা রায় অফিস খুলে বসেছিলেন সকাল থেকে। কিন্তু পুরসভায় যাননি শোভন। রাতে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেন, দিদি যা নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি তাই করবেন। ঠিক সময় মতো মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে এ দিন দুপুরে ইস্তফা দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।
চেয়ারম্যান মালা রায় বলেন, “শোভনবাবু তাঁর প্রতিনিধিকে দিয়ে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। আমি তা গ্রহণ করেছি।” পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা বৃহস্পতিবারের দলীয় সভায় ঠিক হবে বলে জানান মালা। শোভন চট্টোপাধ্যায় তাঁর ইস্তফাপত্রে কী কারণ লিখেছেন? মালা রায়ের উত্তর “নো কমেন্টস।”
শাসক দলের অন্যতম ক্ষমতাবান ছিলেন শোভন। পরিবেশ, দমকল, আবাসনের মতো দফতরের মন্ত্রীত্ব, কলকাতার মেয়র এবং সেই সঙ্গে দলের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার সভাপতি। কিন্তু গত এক বছর ধরেই তাল কাটতে শুরু করে শোভনের। প্রথমে তাঁর হাত থেকে পরিবেশমন্ত্রক নিয়ে তা দিয়ে দেওয়া হয় শুভেন্দু অধিকারীকে। মাস দেড়েক আগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেন মমতা। দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে। মঙ্গলবার, হাতে থাকা দুটি দফতরও চলে যায় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার কারণে। এ দিন দুপুর পর্যন্ত খাতায় কলমে ছিলেন মেয়র। এখন আর সেটাও নেই। শোভন এখন শুধুই একজন সাধারণ বিধায়ক এবং কাউন্সিলর।

Be the first to comment