আচমকা পদত্যাগ রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের, এলেন রবি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে হাই ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আচমকাই পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। কেন তিনি এই পদ ছাড়লেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, রাজ্যপাল এখন দিল্লিতেই আছেন। সেখান থেকেই তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। মেয়াদ শেষের আগেই তিনি কেন পদত্যাগ করলেন তা নিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
২০২২ সালে র ১৭ নভেম্বর মাসে সি ভি আনন্দ বোস এখানে রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী ২০২৭ সাল অবধি তাঁর কাজের মেয়াদ ছিল। এর আগেই তিনি নিজে সরলেন নাকি তাঁকে সরানো হল তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

আর এক ভোটমুখি রাজ্য তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি-কে অস্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল করা হয়েছে।
শাসক তৃণমূল এর নেপথ্যে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র আছে বলে মনে করে।
বিরোধী সিপিএমের প্রশ্ন, উনি নিজে পদত্যাগ করেছেন নাকি ওঁকে পদত্যাগ কর‍তে বাধ্য করা হল?

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগপত্র গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই ভোটমুখি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি-কে এখানকার অস্থায়ী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদতে বিহারের ভূমিপুত্র, প্রাক্তন আইপিএস আর এন রবি-র সঙ্গে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের “মধুর “সম্পর্ক কারও অজানা নয়। সম্প্রতি তামিলনাড়ু বিধানসভার বাজেট অধিবেশন উদ্বোধনের দিন ও সরকারের সঙ্গে তাঁর প্রবল সংঘাত হয়।

দুঁদে আমলা, প্রাক্তন পুলিশ কর্তা আর এন রবি-কে অস্থায়ী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তাই বিভিন্ন মহলে চর্চা এখন তুঙ্গে। তিনি গোয়েন্দা দফতর সিবিআই-এও কাজ করেছেন। মেঘালয়, নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল ছিলেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে অস্থায়ী ভাবে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে তাই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
কোন রকম পুর্বাভাস ছাড়া যে ভাবে দিল্লি গিয়ে সি ভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করলেন এর নেপথ্যে কি আছে তা নিয়েও জোর চর্চা চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় হতবাক, স্তম্ভিত বলে জানান। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চাপে পদত্যাগ করলেও তিনি অবাক হবেন না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

তাঁর সঙ্গে যতই সংঘাত থাকুক, আচমকা সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগে উদ্বিগ্ন, হতবাক রাজ্য সরকার। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, দলের জাতীয় মুখপাত্র চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোন আলোচনা, পরামর্শ ছাড়াই তা হল!! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন অন্য একজনকে সি ভি আনন্দ বোসের জায়গায় দেওয়া হল, তিনি আর এন রবি।
বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কিছুদিন যখন বাকি তখন কেন এই পরিবর্তন তিনি প্রশ্ন তোলেন। বলেন, এর নেপথ্যে কি আছে?? তবে কি রাষ্ট্রপতির শাসন করে ভোট হবে? সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপালের আগামীকালও যেখানে রাজ্যের এক জেলা সফরে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে কি প্রেক্ষিতে তিনি পদত্যাগ করলেন, তা আশ্চর্য বলে জানান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সমাজমাধ্যমে আরও জানান, আচমকা এই রাজ্যপাল বদলের খবরে তিনি গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন, স্তম্ভিত। তাঁর পদত্যাগের নেপথ্যে কি কারণ জানা নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কোন পরামর্শ না করেই আর এন রবিকে রাজ্যপাল নিয়োগ করার খবর জানানোয় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
এই ধরণের কাজ ভারতের সংবিধানের অবমাননা ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠানোর পরিপন্থী। কেন্দ্রর এই কাঠামোকে সম্মান করা উচিত জানিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর ফলে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও রাজ্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*