‘বাংলায় আমি বেশি করে কথা বলব ক্ষমতা থাকলে আমায় ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখুন’ বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ মমতার

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- 

  • দল লক্ষ্য করছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফেও লক্ষ্য করছি। প্রতিদিন অভিযোগ আসে। আমি অত্যন্ত লজ্জিত, ব্যথিত, মর্মাহত, ভারত সরকার ও বিজেপি পার্টির এই আচরণে।
  • মঞ্চ থেকে ডিভিসিকে তোপ মমতার। বললেন, “প্রচন্ড বর্ষায় ভিজে এসেছেন, এটা প্রকৃতির দান। বহু মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরও না জানিয়ে বারবার জল ছাড়ছে।”
  • বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে আইডি কার্ড, আধার কার্ড আছে। ওঁদের দক্ষতা আছে, তাই বাইরের রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছেন। ২২ লক্ষ বাংলার মজদুর বাংলার বাইরে গিয়েছেন। তাঁদের দিয়ে কাজ করাবে, আবার বাংলা ভাষায় কথা বললেই ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। কেন? মঞ্চ থেকে বিজেপি সরকারকে প্রশ্ন মমতার
  • আমাদের রাজ্যে অন্য যে রাজ্যের যে নাগরিকরাই থাকুন না কেন, আমরা সবাইকে সম্মান করি। আমরা মনে করি, ওঁরা আমাদের দেশের নাগরিক। বাঙালিদের উপর এত রাগ কেন?
  • মমতা বললেন, “কথায় আছে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়… ওরা বলেছে বাংলায় কথা বললেই অ্যারেস্ট করুন। আমরা সব ভাষাকে সম্মান করুন। যারা ভারতের নাগরিক তাঁদের সকলকে আমরা সম্মান করি। বাঙালি-অবাঙালি কারও উপর অত্যাচার সহ্য করব না। জমিদারি নাকি? বাংলা বললেই বাংলাদেশি রোহিঙ্গা বলবেন? হেনস্তা করা হচ্ছে যাদের সকলের কাগজপত্র আছে। শুনে রাখুন, যারা এখান থেকে কাজ করতে বাইরে যায়, দক্ষতা আছে বলে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। ওরা বাংলায় থাকলে অনেক ভালো থাকত। কিন্তু তাঁরা গিয়েছে, কোন অধিকারে তাঁদের উপর অত্যাচার করা হবে?”
  • সীমানা কার হাতে আছে? যাঁদের বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলছেন, সীমান্তরক্ষীরা কী করছেন? আমি চ্যালেঞ্জ করছি। সীমানা সুরক্ষা করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের, আমাদের নয়।
  • কেন্দ্রীয় সরকারের মনে রাখা উচিত, আমাদের রাজ্যেও দেড় কোটি বাইরের মানুষ থাকেন। তাঁরা এখানে কাজ করেন। আমরা তাঁদের সম্মান করি, আপনারা বাঙালিদের অসম্মান করছেন। এই ভাবে দেশ চলবে?
  • সিবিআই, ইডি, এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে ছোট নেতাগুলো বড় নেতাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে। নাম না করে শুভেন্দুকে আক্রমণ মমতার।
  • ‘বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না’, সাফ জানালেন মমতা।
  • বাংলার মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখলে, আগামী দিনে বাংলার মানুষ ভোটে জবাব দিয়ে বিজেপিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে, ধর্মতলা থেকে হুংকার মমতার
  • “ডিভিসির জলে, পাঞ্চেতের জলে প্রায় ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে এ বারে। তার মধ্যে বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমানের কিছুটা, হুগলি, হাওড়া, নদিয়ার কিছুটা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ সারা বাংলায় অনেকে প্লাবিত হয়েছেন। তাঁদের জন্য গতকাল আমরা মিটিং করেছি। আমরা যা যা করার করব। আপনারাও সকলে তাঁদের সকলে থাকবেন।”
  • “বিজেপি কি দেশের জমিদারি পেয়ে গিয়েছে? যাকে ইচ্ছা জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি রোহিঙ্গা বলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ তো আলাদা দেশ। রোহিঙ্গা তো মায়ানমারের। তাতে আমাদের এখানে কি! পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের কাছে আধার কার্ড, প্যান কার্ড রয়েছে। আমাদের ২২ লক্ষ বাংলার মজদুর আছে। তাঁরা বাংলায় থাকলে অনেক ভাল থাকতে পারেন। তাঁদের দিয়ে কাজ করাবে, আর বাংলায় কথা বললেই তাঁকে জেলে নিয়ে যাবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। কেন? কোন অধিকারে? পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতের অঙ্গ নয়?”
  • অনুপ্রবেশ নিয়ে মমতা মনে করিয়ে দেন, সীমান্ত বিএসএফের হাতে। বিএসএফ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে। মমতা বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে সিআইএসএফ, সিআরপিএফ আছে। বিমানে কেউ এলে, সেটিও কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক দেখে।” তিনি জানান, অনুপ্রবেশ দেখার কাজ কেন্দ্রীয় সরকারের।
  • “আমি বিহারে শুনেছি ৩০.৫ লক্ষ ভোট বাদ দিয়ে দিয়েছে। এ সব করে মহারাষ্ট্রে বিজেপি জিতেছে। না হলে জিততে পারত না। দিল্লিতেও এই সব করেই জিতেছে। বিহারেও সেই পরিকল্পনা করছে। তারাও আমাদের ভাই-বোন। বাংলাতেও পরিকল্পনা করছে। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করব। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও আমরা ছাড়ব না।”
  • আমাদের পুরসভায় ৯০ শতাংশ কর্মী বিহারের। ওরা কাজ করতে সক্ষম, তাই করে। আমরা কি কাউকে বের করে দিয়েছি?”, প্রশ্ন মমতার।
  • মতুয়া এবং রাজবংশী পরিযায়ীদের প্রসঙ্গও টানেন মমতা। তিনি বলেন, “মহারাষ্ট্রে মতুয়াভাষীদের উপর অত্যাচার হয়েছে। নির্বাচনের সময় মতুয়াদের বাড়ি গিয়ে ভোটভিক্ষা করেন। অন্য সময় অত্যাচার করেন। উদয়ন জানেন কতজন রাজবংশীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং তাঁদের জেলে রাখা হয়েছে।” কেন্দ্রের থেকে এর জবাব চান মমতা। নদিয়ার লোকেদের ছত্তীসগঢ়ে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জলের লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, “তাঁদের অন্ধকূপে রেখে দেওয়া হয়েছে।”
  • অসম সরকারকে বিঁধে মমতা বলেন, ছত্তীসগঢ়ের খবর পেয়ে নদিয়ার বাংলাভাষীদের ছাড়াতে মহুয়া মৈত্র সেখানে গিয়েছেন। দিল্লিতেও হেনস্থার শিকার বাঙালিদের নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা ধর্না করেছেন। তিনি বলেন, “কোচবিহারের বাসিন্দাদের অসম সরকার নোটিস পাঠিয়েছে। তাদের কী অধিকার আছে?”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*