রোজদিন ডেস্ক : অন টাইম, এভরি টাইম, ধ্বনি তোলা দেশের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর একের পর এক উড়ান আজ বাতিল হল। যা নিয়ে দেশের সব রাজ্যেই যাত্রী পরিষেবা ভীষণভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। আজ সকাল থেকেই এই নামী সংস্থার একের পর এক বিমান দেরিতে ছাড়ে, বহু উড়ান বাতিলও হয়। গতকাল থেকেই সংস্থার উড়ানে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আজ তা চরমে ওঠে। ৮৫টি উড়ান বাতিল হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্য সূত্রে এই সংখ্যা শতাধিক বলে জানা যায়।

ইন্ডিগো সুত্রের খবর, দেশের একাধিক বিমানবন্দরেই এই পরিস্থিতি হয়। দিল্লি ও মুম্বাই এ যথাক্রমে ৩৮ টি ও ৩৩ টি উড়ান বাতিল হয়েছে।
বিমানকর্মীদের স্বল্পতা, প্রযুক্তিগত সমস্যা, বিমানবন্দরে যানজটও এর কারণ বলে জানা যায়। এর ফলে হাজার হাজার যাত্রী অসুবিধায় পড়েন।
ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তাঁরা জানান,” আমরা স্বীকার করছি, গত দুদিন ধরে ইন্ডিগোর পরিষেবা উল্লেখযোগ্যভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। যাত্রীসাধারণের এই অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। ”
ইন্ডিগোর এই একের পর এক উড়ান বাতিল নিয়ে সমাজ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ, রুষ্ট যাত্রীদের ভিডিও, বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বহু ক্ষেত্রে সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতেও দেখা যায়। অনেক যাত্রী সমাজ মাধ্যমে তাঁদের ক্ষোভের কথা খোদ প্রধানমন্ত্রী, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীকেও ট্যাগ করেন।
দিল্লি বিমানবন্দরে এই নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা, গোলমালও বাধে। অনেকে ৭/৮ ঘণ্টা ও তারও বেশি সময় বিমানবন্দরে উড়ানের জন্য অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে পড়েন। বহু যাত্রীর অভিযোগ, সংস্থা এই নিয়ে কোন সদুত্তরও দিচ্ছে না।
সূত্রের খবর ডিজিসি এর নিয়ম নীতি না মেনে কর্মীদের ১০ ঘণ্টারও বেশি কাজ করানো হয়, এর ফলে কর্মীরা ক্ষুব্ধ, গত মাস থেকে যে কাজের সূচি চালু করেছে, এতে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই নয়া ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটস,(এফডিটিএল) এই সমস্যার মূল কারণ বলে জানা গেছে।
বিমান সংস্থা অবশ্য এই ব্যাপক দুর্ভোগের জন্য প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন।
এমনিতেই এই সময় আমজনতা বহু জায়গায় বেড়াতে যান, কাজের সূত্রে যাতায়াত তো আছেই, সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয় বিভিন্ন বিমানবন্দর। হায়দ্রাবাদ বিমানবন্দরে একদল পুণ্যার্থী তুমুল বিক্ষোভ দেখান বলে জানা যায়। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব উড়ান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন।

Be the first to comment