রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বিধানসভা ভোটের আগে বিবেক অগ্নিহোত্রীর নতুন প্রোপাগাণ্ডা ফিল্ম ‘বেঙ্গল ফাইলস’ নিয়ে সরব হল দেশ বাঁচাও মঞ্চ। শুক্রবার প্রেস ক্লাবে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। রাজ্যের প্রাক্তন শ্রম মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, চিত্র পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার, সাহিত্যিক আবুল বাশার, ডাক্তার এবং বৈজ্ঞানিক ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত, বিশিষ্ট শিল্পপতি সি কে ধানুকা, প্রাক্তন ফুটবলার সমরেশ চৌধুরীর মতো সম্মানীয় ব্যক্তিত্বরা। কবীর সুমন ও জয় গোস্বামীর ভিডিও বার্তাও সেখানে শোনানো হয়।
উপস্থিত বক্তারা এদিন বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো, হিন্দু মুসলমানের ভিতরে বিভাজন সৃষ্টি করা ছাড়াও বাংলা এবং বাঙালিকে কালিমালিপ্ত করার ভিন্ন ষড়যন্ত্র প্রতিনিয়ত করে চলেছে আরএসএস ও বিজেপি। বাংলা এবং বাঙালিকে কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্রই তাদের নবতম সংযোজন, বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত একটি চলচ্চিত্র -বেঙ্গল ফাইলস, টিজার ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে চলে এসেছে, এর মাধ্যমেই জানা যাবে কিভাবে কালিমা লিপ্ত করার প্রচেষ্টা চলেছে। বিবেক অগ্নি, ইতিপূর্বে কাশ্মীর ফাইলস একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রটি যারাই দেখেছেন তারাই বুঝবেন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো ব্যতীত ওই চলচ্চিত্রটির অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।’
তাঁরা আরোও বলেন যে, ‘কোনো নির্বাচনে আগে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানো বিজেপির একটি পুরানো রাজনৈতিক ছক, এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে তারা এই কৌশল কাটিয়েছে, এই রাজ্যেও এবার ভোটের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে বিজেপি নেতারা কোমর বেঁধে নেমেছেন। মুর্শিদাবাদ ও মালদাতে তারা সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র করেছেন, তাও প্রমাণিত। এই রাজ্যের হিন্দু মুসলমান জনগোষ্ঠী এবং রাজ্য প্রশাসন বিজেপির এই ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিয়েছেন।’
তাঁদের দাবী ‘তথ্যের বিকৃতি ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ভবিষ্যতে কাশ্মীর হয়ে যাবে, বিধানসভা ভোটের আগে পূজার মুখে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই ,এই বেঙ্গল ফাইলস রিলিজ করা হচ্ছে, তা বুঝতেও খুব বেশি বুদ্ধির দরকার হয় না। বাংলার সম্প্রীতি শিকড় এতটাই গভীরে যে হাজার প্ররচনাকে ব্যর্থ করে বাংলা বারবার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞান গবেষণা এই বাংলায় সারা ভারতে পথ দেখিয়েছে।’

Be the first to comment