চলতি মাসে শেষবারের মতো ছাপা হবে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির বাংলা মুখপত্র কালান্তর। ৫৩ বছরের এই পত্রিকা আর্থিক সংকটে জর্জরিত। গত ৫ অক্টোবর কালান্তর বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পার্টি। তারপর থেকেই চূড়ান্ত অনিশ্চয়তাই ৬০ জন কর্মীর ভবিষ্যৎ।
কালান্তর পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর ওয়ার্কিং চেয়ারম্যান পবিত্র সরকার বলেন, “এই কাগজের নামকরণ করেছিলেন প্রখ্যাত কবি বিষ্ণু দে। শিরোনাম এঁকেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়। দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কালান্তর পত্রিকা। আমি নিজে ৫২ বছর ধরে কাজ করছি এখানে। গত ৫ অক্টোবর জানতে পারলাম পার্টির তরফে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পত্রিকাটি। সম্পাদক জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটের জন্য পত্রিকা আপাতত বন্ধ থাকবে।”
৮ পাতার এই পত্রিকা ছাপাতে মাসিক খরচ ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। একসময় রঙিন থাকলেও অর্থের সংকটে কালান্তর হয়ে যায় সাদাকালো। ২০১১ সালের পর থেকেই সংকট ক্রমশ বাড়তে থাকে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে কালান্তর।
পত্রিকার অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর অনুপম দাশগুপ্ত বলেন, “২০১১ সালের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়তে থাকে কালান্তর। ভারতীয় জনতা পার্টি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সবরকম বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারও বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করে কালান্তরকে। আর্থিক সংকট চরম আকার নেয়। এখানকার কর্মীরা খুব অল্প বেতনে কাজ করেন। আমরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু কোনও সদুত্তর মেলেনি। এখনও পর্যন্ত বেতন বন্ধ না হলেও, পত্রিকাটি যে আর চলবে না সেই বিষয়টি স্পষ্ট।”
অনুপমবাবু জানান, ১৯৬৬ সালে খাদ্য আন্দোলনের পটভূমিতে ভবানী সেনের উদ্যোগে পার্টি প্রথম সাপ্তাহিক কালান্তর প্রকাশ করে। পরে তা হয় দৈনিক। প্রথমে ছিল চারপাতার। পরে কলেবরে বেড়েছিল কালান্তর। রাজনৈতিক খবর সহ অন্য খবর থাকত কালান্তরে। বাম বুদ্ধিজীবী ধর্মনিরপেক্ষতার হাতিয়ার ছিল কালান্তর।

Be the first to comment