৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনের পরের দিন ৭ নভেম্বর, ২০২৫ শুক্রবার নন্দন, রবীন্দ্রসদন, শিশির মঞ্চ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ভারতীয় ও অন্যান্য দেশের বেশ কয়েকটি ছবি দেখানো হয়। এর মধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয় নন্দন এক প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয় ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। প্রসঙ্গত, এ বছর তাঁর শতবর্ষ, সেই উপলক্ষে কলকাতা ৩১ তম চলচ্চিত্র উৎসব তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করতে তাঁর নির্মিত বেশ কয়েকটি ছবি দেখানোর ব্যবস্থা রেখেছে। এদিন বেলা সাড়ে এগারোটায় নন্দন এক-এ ছিল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতামূলক বিভাগে্র একমাত্র বাংলা তথা ভাঋতীয় ছবি ‘নধরের ভেলা’, পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। নধর নামে একটি ছেলেকে এই ছবি, যার চলা ফেরা ওঠা বসার গতি খুব ধীর। কিন্তু নধরের মা তাঁর ছেলেকে অবতার বানিয়ে তুলতে চায়। কিন্তু ছবি নির্দিষ্ট সময়ের বহুক্ষণ পরে শুরু হওয়ায় নন্দন এক-এর পরবর্তী ছবিগুলির সময়ও পিছিয়ে যায়।
দুপুর ২টোর সময় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতামূলক বিভাগে্র ছবি ডেভিড বিন পরিচালিত ‘টু দ্য ওয়েস্ট ইন জাপাটা’ (কিউবা)।”টু দ্য ওয়েস্ট, ইন জাপাটা” হল ২০২৫ সালে ডেভিড বিম পরিচালিত একটি কিউবান-স্প্যানিশ তথ্যচিত্র, যা একজন ব্যক্তির জীবনকে ঘিরে, যে তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য জাপাটা জলাভূমিতে গোপনে কুমির শিকার করে। ছবির পরিচালক ডেভিড বিম সিনেমাপ্রেমীদের সামনে গভীর মর্মস্পর্শী এবং দৃষ্টিনন্দন একটি ছবি উপস্থাপন করেছেন যা কিউবান সমাজের প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার উপর আলোকপাত করে। সাদা-কালো অত্যাশ্চর্য সিনেমাটোগ্রাফিতে চিত্রায়িত, এই পর্যবেক্ষণমূলক তথ্যচিত্রটি আমাদের জাপাটা জলাভূমিতে নিয়ে যায়, যেখানে অদম্য প্রকৃতি, বিপ্লবী ইতিহাস, মহামারী এবং দৈনন্দিন বেঁচে থাকা এক আকর্ষণীয় মানসিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে মিলিত হয়। কিন্তু ছবিটি শুরু হয় বিকেল চারটের সময়, তার আগে নন্দন এক-এর সামনে থেকে দর্শকদের লম্বা লাইন শিশির মঞ্চ পেরিয়ে যায়। কিন্তু এত দেরি স্বত্বেও দর্শকেরা ধৈর্য ধরেই লাইনে অপেক্ষা করে।
এদিন ভারতীয় ভাষার প্রতিযোগিতা বিভাগের একমাত্র বাংলা ছবি মনেট রায় সাহা পরিচালিত ‘পরবাসী’ দেখানো হয় নন্দন দুই-তে বেলা দেড়টায়। গত শতকের ষাটের দশকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় পূর্ব-পাকিস্তান থেকে এক স্বাধীনতা সংগ্রামী ত্রিপুরায় এসে আশ্রয় নেন। কিন্তু পূর্ব-পাকিস্তান থেকে চলে আসার পথা তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তী কালে অবশ্য ধর্মান্তরিত অবস্থায় তাকে ফিরে পাওয়া যায়। এরপর স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার যেসব পরিস্থিতির সম্মুখিন হয় সেসব কথা নিয়েই এই ছবি।
এদিন ভারতীয় তথ্যচিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগেও দেখানো হয় মনেট রায় সাহা পরিচালিত ‘জিলিপিবালার বন্ধুরা’, নন্দন-তিন-এ বিকাল ৫টায়। পরাধীন ভারতে অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত স্বাধীনতা সংগ্রামী পারুল মুখোপাধ্যায় বাঘা যতীনের বিদ্যাসাগর কলোনিতে একটি তেঁতুল গাছ পুঁতেছিলেন। চারপাশের উন্নয়নে বহুতল বাড়ি উঠতে থাকায় ৮০ বছর প্রবীন সেই গাছটিএ অস্তিত্ব আজ মহা সঙ্কটে। যদিও এলাকার বাস্তুতন্ত্র ওই গাছটির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই গাছটিকে এলাকার মানুষ বাঁচাতে চায়। এইসব কথাই উঠে এসেছে ছবিতে।

Be the first to comment