রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর :
মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়ে গেল কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব। কয়েক শতাব্দী আগে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের প্রপিতামহ রাজা রুদ্র রায় যে পূজা শুরু করেছিলেন, সেই পূজা আজও সমান গাম্ভীর্যে পালিত হয়। সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু রাজবাড়ির দুর্গোৎসব এখনও বহন করে চলেছে সেই বনেদি আভিজাত্য আর আচারবদ্ধতা।
প্রথা অনুযায়ী, প্রতিপদের দিন বোধন ঘরে বিশেষ পূজা সম্পন্ন হয়। একইসাথে নাটমন্দির প্রাঙ্গণে জ্বলে ওঠে হোমাগ্নি, যার শিখা টানা কয়েকদিন জ্বলতে থাকে। সোমবার সেই পুরনো নিয়ম মেনেই শুরু হলো হোমযজ্ঞ। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণে, ঢাক-ঢোলের আওয়াজে আর ধূপ-ধুনোর গন্ধে রাজবাড়ি ভরে উঠলো এক অনন্য আবহে। এই অগ্নিকুণ্ডের পবিত্র শিখা নিভবে নবমীর দিন।

রাজবাড়ির বর্তমান রানীমা অমৃতা রায়ের হাত ধরেই এ বছরের পূজার সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজপরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় ভক্তরা। প্রত্যেক বছর এই মুহূর্ত দেখতে কৃষ্ণনগর ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান। তাদের কাছে এই পূজা শুধু দেবীর আরাধনা নয়, বরং ইতিহাসের অংশীদার হওয়ার সুযোগ।

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারাবাহিকতা। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়—সব যুগেই এই পূজা কৃষ্ণনগরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বলা হয়, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় ছিলেন ভক্তি আর শিল্পরুচির মেলবন্ধনের প্রতীক। তাঁর আমলেই শুরু হয়েছিল নাটমন্দিরে পূজা, যেখানে এখনও দেবীর আরাধনা হয় আদি নিয়মে।

আজও রাজবাড়ির দুর্গোৎসব ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছাড়াও এক সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিপদ থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত রাজবাড়ি পরিণত হয় আলোকোজ্জ্বল আঙিনায়। একদিকে আচার-অনুষ্ঠান, অন্যদিকে সঙ্গীত, ঢাকের তালে তালে মানুষের মিলনমেলা। কৃষ্ণনগরের দুর্গাপুজো মানেই রাজবাড়ির পুজো—এই অমোঘ সত্য আজও বদলায়নি।

Be the first to comment