রোজদিন ডেস্ক : গায়ের তড়িঘড়ি এসআইআর করার সিদ্ধান্তকে ফের তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইনডোরে বিএলএ-দের সভায় তিনি বলেন, বিজেপি সব এজেন্সিকে দালাল বানিয়েছে। বাংলায় দেড় কোটি নাম নাকি বাদ দিতে হবে, খোকাবাবুদের আবদার! বিজেপি তুমি আমাদের সাথে খেলে পারবে না। বাংলাকে জব্দ করতে এলে তোমাদের স্তব্ধ করে দেব। গায়ের জোরে দু’বছরের কাজ তোমরা দু’মাসে করতে চাইছে। প্রতিদিন নির্বাচন কমিশন নির্দেশ বদল করছে। কমিশনের ম্যাপিংটাই পুরো ভুল। ৪৬ টা প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। এর দায় কে নেবে? কমিশনতো এর দায় এড়াতে পারবে না। ডিলিমিটেশনে ঠিকানা বদলেছে, বাতিল। বিয়ে হয়ে অন্য বাড়িতে গিয়েছে, বাতিল। বাংলা ও ইংরেজি নামের বানানে ফারাক রয়েছে, বাতিল। এই অধিকার কে দিল? এলাকায় এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিটিং, মিছিল চলবে। বিএলএ-১, বিএলএ-২ যাঁরা আছেন, তাঁদের ডিসটার্ব করা চলবে না। যখন ডিলিমিটেশন হল, একটা ভোটার আর একটা নির্বাচনী ক্ষেত্রে চলে গেল। মানে আগে ভবানীপুরটা ছিল আলিপুর। এখন হয়ে গিয়েছে ভবানীপুর। যুক্ত হল অন্য নতুন ওয়ার্ড। সব বিধানসভায় তাই হয়েছে। ম্যাপিংটাই তো ভুল। এটা গ্রেট ব্লান্ডার। ২০০২ সালের পরে যে ডিলিমিটেশন হয়েছিল, সেটা কি বিবেচনায় রাখা হয়েছিল?
বিএলএ ১ এবং বিএলএ ২ দের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোন কোন বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় ওঠেনি তার বিস্তারিত খোঁজ নিতে হবে। এ ব্যাপারে বুথ লেভেল এজেন্টদের আরও সক্রিয় ও সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে। যাদের যা প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট দরকার তা দেখতে হবে বিএলএ-দের। ভোটের সময় অন্য রাজ্য থেকে নাম তুলতে এলে অবজেকশন দিতে হবে। মতুয়াদের ভোট কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, আদিবাসীদের ভোট কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অনেকেও বিএলও হয়েছেন, এটা এই প্রথম। নিজের পরিবার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র চাইলে দিতে পারব না। ওনারা তো বাড়িতে হয়েছিলেন, হাসপাতালে নয়। মোদি, শাহের কাছে চাইলে ওরা দিতে পারবেন? ভুয়ো শংসাপত্র দেবেন। আমরা ফেক বানাই না, কেক বানাই। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ দেখাতে পারবেন? ও সব তো লুকিয়ে ডুপ্লিকেট দেখাচ্ছে। এরা পারে না এমন কোনও কাজ নেই। একটা ডুপ্লিকেট শংসাপত্র বানাতে লাগে এক সেকেন্ড। কিন্তু আমরা তো ডুপ্লিকেট বানাব না। কোনও মহিলা বিয়ে করেছেন, কিন্তু পদবি বদলাননি। তাদের নাম বাদ দিয়েছে কমিশন।

২০০২ সালের পর যে পুনর্বিন্যাস হয়েছিল, সেটা কি এখনকার এসআইআরে ধরা হয়েছিল? কোনও ভোটারের নাম ২০০২ সালে অন্য ঠিকানায় ছিল, কিন্তু পুনর্বিন্যাসের পর ওয়ার্ড বদলেছে, ঠিকানাও বদলেছে। এখন তো আবার এআই হয়েছে। একই নাম দিয়ে রাখছে। বিএলওদের দোষ নেই। কলকাতা জেলা আগে অন্যরকম ছিল। আগে ১০১টি ওয়ার্ড ছিল, ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে। কারণ ২০০৯ সালে আসন পুনর্বিন্যাস হয়েছিল। গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াটাই অপরিকল্পিত। চাইলে আমার গলাও কেটে দিতে পারেন, তাও আমি মানুষের কথা বলবই। গায়ের জোরে যে কাজ করতে দু’বছর করতে লাগে, সেটা দু’মাসে করতে হবে? যাতে সরকারে আগের ছয় মাস কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করতে না পারে? পুরোটাই চক্রান্ত।
এদিন বিএলএদের নিয়ে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত শহর কলকাতা ও সংলগ্ন দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির বিএলএরা উপস্থিত হয়েছিলেন সভায়। বাংলার ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৯ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে খসড়ায়। এই অবস্থায় বিজেপির ষড়যন্ত্রে দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে বিএলএদের এদিন সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, হাত ঘোরালে নাড়ু পাব। নাড়ু নিয়ে ভোটে জিতব, নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগাব। আর বাংলাকে দখল করব, বাংলাকে অপমান করব, বাংলার ইতিহাস ভুলিয়ে দেব। নানা রকম চালাকি। জেনে রাখুন চালাকির দ্বারা মহৎ কাজ হয় না।

Be the first to comment