রোজদিন ডেস্ক : এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে দুটি জেলায় সব থেকে বেশি বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তার একটি হল মালদহ। মালদহের মানিকচকের জনসভা থেকে এই ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফের একবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানিকচকের এনায়েতপুর গ্রামীণ গ্রন্থাগার ফুটবল ময়দানের জনসভা থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, এখানে দাঁড়িয়ে সভা করে যাঁদের নাম কেটেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, এসআইআরে অনেকের নাম কেটেছে। কাদের নাম কেটেছে হাত তুলবেন? তা হলে ভোট দেবে কে? বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন? সব মানুষের ভোটাধিকার কেটে দেবেন? বিজেপির দালালি করতে গিয়ে গণতন্ত্রকে পরিহাস করছেন। হাম্পটি, ডাম্পটি শয়তানের দল। অত্যাচারী সরকার। মানুষকে লাইনে দাঁড় করানোর সরকার। গণতান্ত্রিক অধিকার কাড়ার সরকার। এই সরকার দিল্লিতে আর নেই দরকার। আগে পরিবর্তন করতে হবে। যাঁদের নাম কেটেছে, দলীয় কর্মীদের অনুরোধ করব, শুধু প্রচার করলে হবে না। এটাও বড় কাজ। দিল্লি থেকে লোকেরা দেখে দেখে সংখ্যালঘু, তফসিলি, জনজাতিদের নাম বাদ দিয়েছে। বিজেপি কোনও ধর্মে বিশ্বাস করে না। ওদের ধর্ম একটাই, মানুষকে মারার ধর্ম। অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি, এখানে দাঁড়িয়ে সভা করে যাঁদের নাম কেটেছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফোন করে নির্দেশ দেন, মালদহ, মুর্শিদাবাদে ভোট কাটুন। আমার কেন্দ্রেও ভোট কেটে দিয়েছে ৪০ হাজার। সব অফিসারদের বদলে দিয়েছে। ৫ রাজ্যে ভোট হচ্ছে। ৫০০ অফিসার বদলেছে। বাংলাতেই বদলেছে ৪০০ জনকে। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যাদের নাম কেটেছে, ট্রাইবুনালে নিয়ে যান। ৫৮ লক্ষ আগে কেটেছে। ৬০ লক্ষ জেনুইন ভোটার। রাস্তায় ধরনা দিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টে বিচার চাইতে গিয়েছি। ২২ লক্ষ নাম উঠেছে ৬০ লক্ষের মধ্যে। বাকিরা আবেদন করুন। প্রতিবাদও করা যাবে না। প্রতিরোধও করা যাবে না। কমিশনের সামনে ডেপুটেশন দিতে পারবে না। সব কণ্ঠরোধ করেছে। মানুষের কণ্ঠরোধ করা যায় না। ভোটাধিকার সাংবিধানিক অধিকার। আপনাদেরও কাজ করতে হবে। ট্রাইবুনালে নাম পাঠাবেন। দরখাস্ত পাঠাবেন। আইনজীবী দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। ওদের পরিকল্পনায় নেই, এমন কিছু নেই। এদের মতো নোংরা নেই। ছি ছি বিজেপি!
তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট অন্যকে দেবেন না। লোকসভায় কংগ্রেস এবং বিজেপি ভাগাভাগি করে জিতেছে। এরা বাংলায় বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করে চলে। এই ভুল করবেন না। ওরা ডিটেনশন ক্যাম্প করবে। এনআরসি করবে। মানুষকে বিপদে ফেলবে। তৃণমূল সরকার থাকলে একটি মানুষকে ছুঁতে পারবে না। জানি, ভোটের সময় কংগ্রেস, বিজেপি ক্যাশ দেয়। তারপরে গ্যাস, মানে ভাঁওতা। পার্টি অফিস থেকে ফর্ম চেয়ে আবেদন করুন। মিটিং মিছিল পরে হবে। আগে নাম তুলুন। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। এটাই এখন আমাদের প্রায়োরিটি।

Be the first to comment