রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর: নদিয়ার কৃষ্ণনগর গভমেন্ট কলেজ ময়দানে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী জনসভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকাল থেকেই সভাস্থল চত্বরে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এই সভায় যোগ দিতে আসেন, ফলে গোটা এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সরকারি চাকরির সংখ্যা কমেছে এবং বেকারত্বের হার বেড়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “মা-বোনেরা সহ সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চান,”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান শাসন ব্যবস্থার প্রতি জনঅসন্তোষের ইঙ্গিত দেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি অসম ও কেরালার উদাহরণ টেনে বলেন, ওই রাজ্যগুলিতে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে এবং সেখানে বিজেপি জয়লাভ করেছে। পশ্চিমবঙ্গেও যদি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়, তাহলে একই ফলাফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তৃতার মাঝেই “ঝালমুড়ি” প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি, তাতে তৃণমূলের ঝাল লেগে গেছে।” এই মন্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে ভোটের সময় বহু মানুষ ভয়ের মধ্যে ভোট দিতে বাধ্য হন এবং রাজ্য পুলিশ তৃণমূলের প্রভাবেই কাজ করছে। শিল্পক্ষেত্র নিয়েও সরব হয়ে তিনি বলেন, জুট মিলসহ একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে, যার জন্য তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন।
ধুবুলিয়া টিবি হাসপাতাল, জলঙ্গি ও অঞ্জনা নদী সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দখলদারি ও মাফিয়া রাজের অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুপ্রবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কড়া অবস্থান নেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে অনুপ্রবেশ ও গুন্ডামি বেড়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আবেদন করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এই আইন তাদের নাগরিকত্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
সবশেষে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন হলে মহিলাদের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩০০০ থেকে ৩১০০ টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হতে পারে।
এই জনসভাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর তথা নদিয়া জেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Be the first to comment