মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নস্ট্যালজিক মৌসুমী চক্রবর্তী; পড়ুন!

Spread the love
মমতা দিদি তখন কয়লা মন্ত্রী। তাঁর কাছে গিয়ে অনুরোধ করলেন আমার বাবা, মা। পর্ষদকে চিঠি লিখে সব ব্যবস্থাই করে দিলেন দিদি। সাড়ে আট বছরে মাধ্যমিক দিলাম,” একটানা কথাগুলো বলে একটু থামলেন মৌসুমী চক্রবর্তী। হয়তো ফিরে গেলেন হারানো দিনে। স্মৃতির খাতা থেকে জীবন সংগ্রামের এমনই নানা কথা বলে চললেন এক সময়ে পুরুলিয়ার সেই ‘অবাক মেয়ে’ মৌসুমী চক্রবর্তী।
আমতার সইফার সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে পুরুলিয়ার মৌসুমীর। মাত্র ১১ বছর বয়সে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে হাওড়ার আমতার প্রত্যন্ত গ্রাম কাষ্ঠসাংড়ার ছোট্ট মেয়ে সইফা। বিস্ময়বালিকা সইফাকে নিয়ে তাই সাড়া পড়ে গেছে গোটা রাজ্যেই। স্বভাবতই এই প্রসঙ্গে উঠে এসেছে মৌসুমীর নামও। ঝাড়খণ্ডের একটি বিএড স্কুলে অধ্যাপনার কাজ করেন মৌসুমী।
সালটা ১৯৯১। খবরের শিরোনামে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের খুদে মৌসুমী চক্রবর্তী। বয়স মাত্র সাড়ে আট বছর। এই বয়সেই তার মেধা তাক লাগিয়ে দিয়েছে রাজ্যবাসীকে। প্রথাগত স্কুলের পাঠ নেয়নি মৌসুমী। বাড়িতেই পড়াশোনা। বাংলা থেকে ইংরাজি, যে কোন বই নিমেষে কণ্ঠস্থ করে ফেলতে পারে মেয়ে। ছোটদের পাঠ কবেই শেষ। বড়দের পাঠ্য বইতে নজর খুদের। মোটা মোটা বই গোটাটাই মুখস্থ। যে কোনও বিষয়ে নখদর্পণে। মেয়ের প্রতিভা দেখে তাজ্জব বাবা, মাও।
মেয়ের মধ্যে যে প্রতিভা রয়েছে তার আঁচ আগেই পেয়েছিলেন বাবা, মা। বিদ্যুতের গতিতে ছুটছে মেয়ে। ওইটুকু বয়সেই সবার চেয়ে এগিয়ে। সাড়ে আট বছরেই মাধ্যমিক দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু, পর্ষদ কর্তৃপক্ষ রাজি ছিলেন না। তার প্রধান কারণ বয়স।
মৌসুমীর কথায়, “কোন দিন স্কুলে যেতে হয়নি। বাড়িতেই পড়াশোনা করেছি। মাধ্যমিকের পড়া কবেই শেষ করে ফেলেছিলাম। কিন্তু, ওই বয়সে মাধ্যমিকে বসতে দিতে রাজি ছিলেন না পর্ষদ কর্তৃপক্ষ।” মৌসুমীর বাবা, মা তাই ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।
“মমতা দিদি চিঠি লিখে সব ব্যবস্থা না করে দিলে হয়তো পরীক্ষা দেওয়াই হত না”, আবেগে ভেসে গিয়ে বললেন মৌসুমী। জানালেন, তাঁর বাবা, মা’কে অনেক ছোটাছুটি করতে হয়েছে। তবে তাঁরা হাল ছাড়েননি। মৌসুমী ওই বয়সেই মাধ্যমিক দেবে, এমনটাই জেদ চেপে গেছিল তাঁদের।
তবে নিজেকে আলাদা বলে ভাবতে রাজি নন মৌসুমী। রাঁচি ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরাজিতে পিএইচডি করার পর তিনি এখন অধ্যাপিকা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর লক্ষ্য।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*