রোজদিন ডেস্ক : আগামী বুধবার পাঁচ নভেম্বর কলকাতায় নাস্তিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই রাজ্য তথা সারা দেশে বিভিন্নভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচেষ্টার নিরিখে এই সম্মেলন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
রাজ্যে নাস্তিক সম্মেলন অবশ্য নতুন না, এর আগে ২০২২ সালে শ্রীচৈতন্যর জন্মভূমি নবদ্বীপে নাস্তিক মঞ্চের রাজ্য সম্মেলন হয়। সেখানে নিরীশ্বরবাদীদের বড় মিছিল নজর কেড়েছিল।

চলতি বছরের প্রথম দিকে বারাসতেও এই ধরনের কর্মসূচি হয়। এবার উত্তর কলকাতার রামমোহন গ্রন্থাগারের হলে এই অনুষ্ঠান হবে। শরীর ঠিক থাকলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে ডুবে মৃত ছাত্রীর মা সেখানে যাবেন বলে জানা যায়।
মাস দুয়েক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক ভাবে ডুবে প্রাণ হারান এই ছাত্রী। একমাত্র সন্তানের এই প্রয়াণে ঈশ্বরে বিশ্বাস হারিয়েছেন মা মীনাক্ষী মন্ডল। তাঁর কথায়, ঈশ্বর থাকলে কি আর এই দিন তাঁদের দেখতে হোত!!
নাস্তিক মঞ্চের এই সম্মেলনে তাঁদের জেলা কমিটি গঠিত হবে। এরপর তাঁরা সদস্য সংগ্রহ ও শুরু করবেন।
রাজ্যে যেভাবে রাজনীতিতে ধর্মীয় বিভাজনের হাওয়া বইছে, এতে বহু ধার্মিক মানুষ ও চিন্তিত। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, এতে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন। নাস্তিক মঞ্চের উদ্যোক্তাদেরও মত, সরকারের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকৃত অর্থই হল, সব ধর্মর থেকেই তারা নিরপেক্ষ থাকবে।
কেন্দ্র সহ সারা দেশে এর বিপরীত স্রোত দেখে উদবিগ্ন তাঁরাও।
তবে শুধু ঈশ্বরে অবিশ্বাসীরা নয়, ধর্মবিশ্বাসী, সংশয়বাদীরাও এই সম্মেলনে আসুন, এমনটাই চান উদ্যোক্তারা। সবাই আসুন, তাঁদের কথা শুনে নিজেদের যুক্তি দিয়ে সব বিচার করুন এটাই চান তাঁরা। এই সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন বাসুদেব ঘটক, কনিষ্ক চৌধুরী প্রমুখ যুক্তিবাদী, সমাজকর্মীরা। যাঁদের উদ্দেশ্য, যুক্তি ও বস্তুবাদী হোন সবাই। প্রাচীন সাহিত্য, সংস্কৃতির ইতিহাসে ও শুধু ধর্ম নয়, গুরুত্বপূর্ণ ছিল যুক্তি ও বস্তুবাদও। বিশেষত, ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে দেশব্যাপী বিভাজন, ঘৃণার বাতাবরণ তৈরিরও তাঁরা ঘোর বিরোধী। সম্মেলনে এই সবই তাঁরা তুলে ধরবেন বলে জানা যায়।

Be the first to comment