রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্রাত্য বসুকে নিগ্রহের প্রতিবাদে পথে নামে তৃণমূল। তবে তৃণমূলের মিছিল যাদবপুর থানার সামনে পৌঁছাতেই বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর মুখোমুখি হয় তাঁরা। দুপক্ষের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠে যাদবপুর থানার সামনে। শুরু হয় পথ অবরোধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নামানো হয়েছে র্যাফ।

শিক্ষা মন্ত্রীকে নিগ্রহ’ করার প্রতিবাদে সুকান্ত সেতু থেকে মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। মিছিলে যোগ দেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ, রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সহ বাকিরা। যাদবপুর থানার সামনে তাঁদের মুখোমুখি হয় এসএফআই-এর সদস্যরা। এরপরই বাড়ে উত্তেজনা। গোটা ঘটনার প্রতিবাদে এইট-বি বাস স্ট্যান্ডের কাছে অবরোধে বসে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।
প্রসঙ্গত, শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলপন্থী শিক্ষক-অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভা ঘিরে সকাল থেকেই উত্তপ্ত ছিল পরিবেশ। এসএফআই ও অন্যান্য বামসমর্থিত ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে পোস্টার, ব্যানার হাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ, এরপর দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সভায় ভাষণ দেওয়াকালীন সেখানে ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করে ‘তাণ্ডব’ চালায় বামপন্থী ছাত্রদের কয়েকজন।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বেরনোর সময়ই চরম আঘাতের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। গাড়ি ঘিরে ধরে চলে বিক্ষোভ। ইটের আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে লাগে মন্ত্রীর রক্ষীর গায়ে। আহত হন ব্রাত্য বসুও। এসময় বিক্ষোভের মাঝে গাড়ি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজন আহত হন, রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাতে আগুনে আরও ঘি পড়ে।
এরপর সন্ধ্যা নামতেই যাদবপুরের আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা রাস্তা অবরোধ করেন। তাতে যাদবপুর-ঢাকুরিয়া ও গড়িয়া-গড়িয়াহাটের রাস্তা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। পথচারীরা আটকে পড়েন। যানজট দীর্ঘ হলে যাত্রীদেরই কেউ কেউ এগিয়ে এসে পথ অবরোধ তোলার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাতে কাজ না হলে যাত্রীরাই সমবেতভাবে চাপ দেন। তাতে পিছু হঠে অবরোধ তোলেন আন্দোলনকারীরা। রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডের দুটি লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Be the first to comment