ভারতের অস্থায়ী কর্মশক্তি ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১ কোটির থেকে বেড়ে ২০২৯-৩০ অর্থ বছরে ২.৩৫ কোটিতে পৌঁছাবে বলে অনুমান। ভারতের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের রিপোর্টে প্রকাশিত যে, ভারতের ক্রমবর্ধমান অস্থায়ী শ্রমশক্তি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করছে। প্রায় ৫০ কোটি শ্রমশক্তি, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ জনসংখ্যা, দ্রুত নগরায়ণ এবং স্মার্টফোন ও ডিজিটাল সরঞ্জামের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে দেশ এই রূপান্তরের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এই রিপোর্টে আরোও বলা হয়, অস্থায়ী ও প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতি রাইডশেয়ারিং, ডেলিভারি পরিষেবা, লজিস্টিক্স বা সরবরাহ পরিষেবা এবং পেশাদারী কাজের মতো ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। নীতি আয়োগ-এর মতে, এই খাতে ২০২৪-২৫ সালে ১ কোটির বেশি শ্রমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং এই সংখ্যা ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ২.৩৫ কোটিতে পৌঁছাবে। সংসদ কর্তৃক গৃহীত সামাজিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২০-এ প্রথমবারের মতো “অস্থায়ী শ্রমিক” এবং “প্ল্যাটফর্ম শ্রমিক” শব্দগুলিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তাদের সামাজিক সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে জীবন বীমা, দুর্ঘটনা বীমা, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা এবং বার্ধক্যকালীন সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
শ্রম মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অস্থায়ী ও প্ল্যাটফর্ম, অর্থনীতিকে দ্রুত শ্রমবাজারে রূপান্তর করছে। এটি সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি, নতুন সুযোগ-ও তৈরি করছে। সামাজিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২০ এবং ই-শ্রম পোর্টাল-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার অস্থায়ী ও প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের স্বীকৃতি প্রদান, সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। নিবন্ধন সুবিধা, স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা কভারেজ প্রদান এবং সরকারি সুবিধাগুলিতে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই পদক্ষেপগুলির উদ্দেশ্য হল প্ল্যাটফর্ম শ্রমিকদের মূলধারায় আনা এবং দেশের কর্মশক্তিকে আরও শক্তিশালী করা। যেহেতু এই খাতটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত কৌশল প্রতিটি অস্থায়ী শ্রমিককে মর্যাদা, সুরক্ষা ও সুযোগের সঙ্গে কাজ করার নিশ্চয়তা প্রদানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সেখানে আরো বলা হয়েছে, আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)-এর আওতায় স্বাস্থ্যসেবা কভারেজের কথা। উল্লেখ্য, AB-PMJAY স্বাস্থ্য পরিকল্পনা ভারতের ৩১,০০০-র বেশি সরকারি ও বেসরকারি তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রতি পরিবারকে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমা প্রদান করে।

Be the first to comment