রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- মৃত্যু হল ওড়িশার বালেশ্বরের নির্যাতিতার। সোমবার বেশি রাতের দিকে ভুবনেশ্বর এইমসে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার ১৭ তারিখ ওড়িশা বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস।
ভুবনেশ্বর এইমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সোমবার রাত ১১.৪৬ মিনিটে ওড়িশার বালেশ্বরের ওই কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার থেকে ভুবনেশ্বর এইমসের বার্ন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, তরুণীকে বাঁচানোর জন্য সম্ভাব্য সবরকম পদক্ষেপ করা হয়েছিল। তাঁর বৃক্কতন্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ছাত্রীর দেহের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে শনিবারই ভুবনেশ্বর এইমসে স্থানান্তর করা হয় তরুণীকে। কিন্তু, প্রাণে বাঁচানো গেল না।
মেয়েটির মৃত্যুর বিষয়ে কংগ্রেস নেতা ইয়াশির নওয়াজ বলেন, “সন্ধ্যায় আমরা যখন এইমসের ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করি, তারা স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে, তার শরীরের ৯৫% পুড়ে গিয়েছে, মেয়েটির বাঁচার সম্ভাবনা কম। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে একজন ছাত্রী এমপি, এসপি, অধ্যক্ষ, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচারের ভিক্ষা করছিল, মেয়েটি ছিল ওই কলেজের বিএড এর ছাত্রী। আমরা প্রতিবাদ করছি, কারণ তারা ভোররাত ২টোয় ময়নাতদন্ত করছে। সরকার, পুলিশের সহায়তায়, ময়নাতদন্তের পরে মৃতদেহ নিয়ে যেতে চায়। উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। দোষীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা এবিভিপির সহায়তায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি বিজেপি সরকারের দোষ। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজকে অপসারণ করতে হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অন্যদিকে বিজেডি নেত্রী সুলতা দেও বলেন, “এই সরকার দলিত ও আদিবাসীদের বিরুদ্ধে। রাতে কেন ময়নাতদন্ত করা হয়েছিল? রাতেই মৃতদেহ আনা হয়েছিল যাতে কেউ জানতে না পারে।”
বিজেডি নেত্রী ইপ্সিতা সাহু ও বলেন, “কেন বিজেপি নেতাদের হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আমাদের বাইরেও থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী সূর্যবংশী সুরজের পদত্যাগ করা উচিত।”

Be the first to comment