পাইপ লাইনের কাজের জেরে বিপজ্জনক রাস্তা, গর্তে আটকে কাত হয়ে গেল মোটর ভ্যান

Spread the love

রমিত সরকার, নদীয়া : 

কৃষ্ণনগরের সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি থেকে কদমতলা ঘাট যাওয়ার পথে আর এন টেগর রোডের একাংশে পাইপ লাইনের কাজকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া গর্তে আটকে কাত হয়ে গেল একটি মোটর ভ্যান। ঘটনাকে ঘিরে আজ সকালে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই রাস্তার অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রশাসনের তরফে সাময়িকভাবে মাটি ফেলে গর্ত ভরাট করা হলেও স্থায়ী মেরামতির কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ওই এলাকায় পাইপ লাইনের কাজ শুরু হয়। কাজের জন্য রাস্তার একটি বড় অংশ কেটে খোঁড়া হয়েছিল। পরে পাইপ বসানোর কাজ শেষ হলে গর্তটি অস্থায়ীভাবে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির জেরে সেই মাটি বসে যেতে শুরু করে। ফলে রাস্তার মাঝখানে বড়সড় গর্তের সৃষ্টি হয় এবং ওই অংশ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বৃহস্পতিবার সকালে একটি মোটর ভ্যান ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই গাড়িটির একটি চাকা গর্তের মধ্যে ঢুকে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ভারসাম্য হারিয়ে গাড়িটি একদিকে কাত হয়ে পড়ে। যদিও বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি, তবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান চালক। ঘটনাটি চোখের সামনে ঘটতে দেখে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় মানুষ দ্রুত ছুটে আসেন। পরে বহু মানুষের চেষ্টায় গাড়িটিকে গর্ত থেকে বের করা সম্ভব হয়।

ঘটনার জেরে বেশ কিছু সময় ওই রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ছোট গাড়ি ও টোটো চালকদের অনেকেই বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে অফিসযাত্রী ও ব্যবসায়ীদেরও যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। অথচ রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, পাইপ লাইনের কাজের পর নিয়ম মেনে রাস্তা সংস্কার করা হয়নি। শুধু উপরে মাটি ফেলে দায় সেরেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টির সময় কাদা জমে গর্ত বোঝা যায় না, ফলে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বহু গাড়িচালক সমস্যার মুখে পড়ছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের।

ঘটনার পর স্থানীয় মানুষ দ্রুত স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। না হলে আগামী দিনে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*