দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক  : দেশবাসীকে স্বদেশীয়ানার পাঠ দিতে খোলা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দীপাবলির শুভেচ্ছা-সহ তাঁর লেখা এই দীর্ঘ চিঠি লক্ষ কোটি দেশবাসীর মেল বাক্সেও যেন দ্যুতি ছড়াচ্ছে। অত্যন্ত আন্তরিক ভাবে লেখা এই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের মাওবাদী সমস্যা নিরসন, রামমন্দির স্থাপন, জিএসটি-র হার কমানো ইত্যাদি বলেছেন  অদূর ভবিষ্যতে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত  হওয়ার কথা জানিয়ে  এই উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারতের এই যাত্রায় সব নাগরিককে দেশের প্রতি কর্তব্য পালনের আহবান জানিয়েছেন।

দীপাবলিতে খোদ প্রধানমন্ত্রীর লেখা এই চিঠি পেয়ে বিস্মিত বহু মানুষ আপ্লুতও। যে ভাবে চিঠির প্রাপককে সম্মানের সঙ্গে তিনি সম্বোধন করেছেন এবং এর শেষে “ইতি, আপনাদের নরেন্দ্র মোদি” লিখেছেন, এতে মুগ্ধ তাঁরা।

আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে স্বদেশী পণ্য গ্রহণ করার আহবান জানান। বলেন, তাঁরা যেন গর্বের সঙ্গে বলেন, “এটি স্বদেশী”। “এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত” এর চেতনা প্রচার করারও ডাক দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রাক স্বাধীনতা যুগের স্বদেশী আন্দোলনের স্মৃতি যেন উসকে দিয়েছেন।

প্রতিটি ভাষাকে সম্মান করতেও বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য সচেতন প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার অনুশীলন করা, খাবারে তেলের পরিমাণ ১০% কমানো,  যোগ ব্যায়ামকে জীবনের অঙ্গ হিসাবে গ্রহণ করতে বলেন। তাঁর কথায়, এই সব প্রচেষ্টা তাঁদের দ্রুত গতিতে “বিকশিত” ভারতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

দীপাবলি র ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যখন একটি প্রদীপ অন্য প্রদীপকে জ্বালায়, তখন তার আলো কমে না, বরং বৃদ্ধি পায়। এই চেতনা নিয়ে তিনি সবাইকে সমাজ ও চারপাশের সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ইতিবাচকতার আলো জ্বালানোর আহবান জানান।

এবারের দীপাবলিকে তাৎপর্যপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ দেশের অনেক জেলায়, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই প্রথম দীপাবলির আলো জ্বলবে। এই সব জেলায় মাওবাদী ও নকশালবাদকে সম্পুর্ণ নির্মুল করা হয়েছে। সম্প্রতি দেখা গেছে, কত মানুষ হিংসার পথ ত্যাগ করেছেন। এবং সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস রেখে উন্নয়নের মূলস্রোতে যোগ দিয়েছেন। এটি দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, আগামী মার্চ মাসের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এই লক্ষ্যে একদিকে যেমন বিভিন্ন মাওবাদী অধ্যুষিত রাজ্যে তাদের দমন ও নিকেশ করা চলছে, এর পাশে মূলস্রোতে ফেরার আহবান জানিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে এই ডাকে সাড়া দিয়ে প্রয়াত মাওবাদী শীর্ষ নেতা কিষেণজির স্ত্রী, ভাই ও বহু মাওবাদী আত্মসমর্পণও করেছেন।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অযোধ্যায় রামমন্দিরে দীপাবলি পালনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভগবান শ্রীরাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শিখিয়েছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর জ্বলন্ত উদাহরণ বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। দৃঢ়ভাবে বলেন, ভারত শুধু ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখেনি, অন্যায়ের বিরুদ্ধেও লড়েছিল। জিএসটি কমানোরও কথা বলেন তিনি।

প্রশ্ন উঠেছে, এই খোলা চিঠিতে সত্যিই কি আপামর দেশবাসীর কাছে পৌঁছেছেন তিনি?? সেই দরিদ্র জনতা, যাঁদের অনেকের এখনও মাথায় ছাদ, পরণের বস্ত্র, দুবেলা পেটভরা খাবার নেই? প্রশ্ন উঠেছে সেই প্রান্তিক আমজনতা, যাঁদের ঘরে বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ  কম্পিউটার ইত্যাদি এখনও শুধুই স্বপ্ন, তাঁদের কাছে পৌছেছে দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা?

সব প্রশ্নের উত্তর হয় না, আপাতত বহু মানুষ বুঁদ হয়ে আছেন এই খোলা চিঠি পেয়ে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বলে কথা!!  নিন্দুকেরা এর মধ্যে তাঁর ও বিজেপির জনসংযোগের কৌশল দেখছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*