মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পুরুলিয়ায় শান্তি ফিরিয়েছেন :অভিষেক

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বিজেপির ছাইপাশ যে কটা আছে, তাদের রেখে দিলে আলসার হবে, আর বাড়তে দিলে ক্যানসার, তাই ওদের নিয়ে সতর্ক থাকুন। তৃণমূলের কোনও স্থানীয় নেতা কোনও অন্যায় করলে এক ডাকে অভিষেক-এ বলুন, আমরা ব্যবস্থা নেব, কিন্তু তার জন্য তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। পুরুলিয়া জেলায় বাম আমলে কী অবস্থা ছিল সবাই জানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে আজও আপনাদের মাওবাদীদের সামনে মাথা নীচু করে থাকতে হত। এইভাবেই বুধবার রণসংকল্প সভার মঞ্চ থেকে পুরুলিয়াবাসীকে বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, জানি এই জেলায় রেলের অনেক সমস্যা আছে। কথা দিচ্ছি, নিশ্চিন্ত থাকুন, জেতার তিন মাসের মধ্যে আপনাদের রেলের দাবি নিয়ে দিল্লি যাবো। এই ইস্যুতে তিনি এরপরই জেলার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে তীব্র আক্রমণ করেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের এলাকার কোনও নেতার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে আমাকে জানান, কিন্তু তার জন্য তৃণমূলের থেকে মুখ ফেরাবেন না। তাঁর কথায়, যদি তৃণমূলের কোনও নেতা খারাপ ব্যবহার করেন, তাহলে এক ডাকে অভিষেক-এ ফোন করে অভিযোগ জানাবেন, কিন্তু কোনও নেতার জন্য তৃণমূলের থেকে মুখ ফেরাবেন না। পুরুলিয়ার গুড়া ব্লকের লধুড়কায় চন্দ্রেশ্বর মাঠে উপচে পড়া জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, সিপিএমের হার্মারাই এখন জার্সি বদল করে বিজেপির জল্লাদ হয়েছে। জেলার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে নিশানা করে বলেন, পুরুলিয়ার উন্নয়নের জন্য কী করেছেন? কেন্দ্র থেকে কত টাকা এনেছেন সেই প্রশ্নও তোলেন অভিষেক। পুরুলিয়ার অতীতের কথা মনে করিয়ে অভিষেক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে পুরুলিয়ায় শান্তি ফেরানো। ৩৪ বছরের বাম আমলে পুরুলিয়ার যে পরিস্থিতি ছিল তার বদল ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিষেকের কথায়, বাম আমলে পুলিশের এমন অবস্থা ছিল যে সকাল ১০টাতেও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। আজ সেই ছবি বদলেছে। ১৯৯৮ সালে ঝালদায় তৃণমূলের জেতা প্রধানকে সিপিএমের হাতে খুন হতে হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ক’টি মাওবাদী নাশকতা হয়েছে, ক’জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে? সিপিএম-ই এখন বিজেপি হয়েছে।
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতকে নিশানা করে বলেন, একটা ট্রেনই যদি সময়ে হাওড়া পৌঁছাতে না পারে, তা হলে এত বছরে সাংসদ কী করলেন? ট্রেন লেটের সমস্যা নিয়েও যাঁর কোনও উদ্যোগ নেই, তিনি নাকি উন্নয়নের কথা বলবেন! নির্বাচনের তিনমাসের মধ্যে পুরুলিয়ায় এই ট্রেনের লেট রান আমরা বন্ধ করবই। রাত ১০টার ট্রেন পরের দিন ভোরে পৌঁছবে, এ জিনিস বরদাস্ত করব না। ২০১১-তে পুরুলিয়ায় তৃণমূল জয় পাওয়ার পর সেখানে বিপুল উন্নয়ন হয়। কিন্তু বিজেপি মাথাচাড়া দেওয়ার পরেই উন্নতি উন্নয়নে বাধা পড়ে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। সেই উন্নয়নের জয়যাত্রা ফের চালু করতে তৃণমূলকে জেতানোর বার্তা দেন অভিষেক। বিধানসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ার ৯টি বিধানসভা আসনে বিজেপিকে ‘শূন্য’ করার ডাক দেন তিনি। জানান, একমাস পর আবার পুরুলিয়ায় আসবেন। যে অঞ্চলে যেতে বলা হবে, সেখানেই যাবেন। এদিনের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধেও ফের সরব হন তিনি। বলেন পুরুলিয়ায় জল, আবাস, একশো দিনের টাকা-সহ সব প্রকল্পের টাকা বন্ধ। তা সত্ত্বেও এই জেলার ১ লক্ষ ৭৮ হাজার মানুষের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে আরও ব্যবস্থা করা হবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*