রোজদিন ডেস্ক : রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তপসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে এবার লিখিতভাবে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানাল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যসচিবের স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক এক প্রস্তাব ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে।এর আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূলের তরফে একই দাবি তোলা হয়েছিল। যদিও তখন তা পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় অমিত শাহর মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু আগেই এই দুই ভাষাকে রাজ্যে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এবার রাজ্যের তরফে পুনরায় রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জোড়ালো দাবি তুলে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বহুল প্রচলিত ভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধানের ৩৪৫ ও ৩৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকারি ভাষা আইন, ১৯৬১ অনুসারে বাংলা ও নেপালিকে সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ব্যবহারের ভিত্তিতে রাজবংশী, কুড়মালি-সহ একাধিক ভাষাকে অতিরিক্ত সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে সংশোধিত আইনের মাধ্যমে রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে নির্দিষ্ট কিছু মহকুমা ও এলাকায় অতিরিক্ত সরকারি ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বর্তমানে রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মানুষ এই দুই ভাষায় কথা বলেন এবং তাঁদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিচয় এই ভাষাগুলির সঙ্গে জড়িত। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রান্তিক ও ভাষাগতভাবে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি এবং আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তি হলে ভাষাগুলির সংরক্ষণ, গবেষণা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যবহার আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করে রাজ্য।

Be the first to comment