ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগড়, মিজোরাম এবং তেলেঙ্গানার ভোট নিয়ে ওয়ার্ম-আপও শুরু করে দিয়েছে বিজেপি এবং কংগ্রেস। এর মধ্যেই শনিবার ছত্তীসগড়ে ভোটের মুখে বড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি তথা চারবারের বিধায়ক রামদে উইকে যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিলাসপুরে বিজেপি-র দলীয় দফতরে দীর্ঘদিনের এই কংগ্রেস নেতা বিজেপি-তে যোগ দেন।
এমনিতে গো-বলয়ের রাজনীতিতে ভোটের মুখে দলবদল নতুন কোনও ঘটনা নয়। বরং জাতীয় রাজনীতির খোঁজ-খবর রাখা অনেকেই বলেন এটাই ওই অঞ্চলের স্বাভাবিক ছবি। ছত্তীসগড়ের কংগ্রেস নেতা ভূপেশ ভাঘেল একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা কয়েকদিন আগেও তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। কিন্তু রামদে আমাদের এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি।”
সূত্রের খবর, শুক্রবারই কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী ছত্তীসগড়ের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। দু-একদিনের মধ্যেই তা ঘোষণা করার কথা ছিল। পালি কেন্দ্র থেকে চার বার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছেন রামদে উইকে। তাঁর মতো দীর্ঘদিনের কংগ্রেসী ঘরানার নেতার দল বদল নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রাহুলের তালিকায় এ বার আর তাঁর নাম নেই? সেটা আগাম জানতে পেরেই কি ডিগবাজি?
বিলাসপুরে এ দিন নির্বাচনী কর্মীসভা করেন অমিত শাহ। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বিজেপি সভাপতির বার্তা, “হাতে আর কটা দিন। ঢেউ তুলে দিন রাজ্যে।” বুথ স্তরে সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করতেও পরামর্শ দেন শাহ।
এমনিতেই এই পাঁচ রাজ্যের ভোট দু’দলের কাছেই লোকসভার সেমিফাইনাল। পর্যবেক্ষকদের মতে, গোবলয়ের তিন রাজ্যের ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে লোকসভায় পশ্চিমভারত থেকে কে কতটা শক্তি নিয়ে দিল্লি যাবে। কংগ্রেস যদি ভাল ফল করতে পারে তাহলে বিরোধী রাজনীতির বৃত্তেও গুরুত্ব বাড়বে। কিন্তু ভোটের আগে ছত্তীসগড়ের শীর্ষ নেতার এই দল বদল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

Be the first to comment