SIR পিছোতে চায় রাজ্য!

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : উৎসবের মরসুম শেষ না হতেই চিন্তার ভাঁজ রাজ্য প্রশাসনে। এই মাস থেকেই বিহারের ধাঁচে এখানেও SIR শুরু হওয়ার কথা। যা নিয়ে উদবিগ্ন রাজ্য সরকার।
চলতি সপ্তাহে ভোটমুখি বিহারে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এস আই আরের ভিত্তিতে এই নয়া ভোটার তালিকায় আগের মত ৬০/৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ না গেলেও লক্ষাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়েও চাপা উত্তেজনা আছে৷
অন্যদিকে এই রাজ্যে এসআইআর হলে ভোটার তালিকায় কয়েক লক্ষ নাম বাদ যাবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।
বিশেষত মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, নদীয়া ইত্যাদি জেলার সীমান্ত এলাকার বহু ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু বাংলাদেশির সন্ধান মিলেছে, যাঁরা ভূয়ো আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। ইতিমধ্যে এই সব অভিযোগে অনেককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ধরপাকড়ের আঁচ পেয়ে অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন, অনেকে বাংলাদেশে বা অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। গোয়েন্দা দফতর এই সব নিয়ে কড়া নজরদারি রাখলেও সীমান্তে অনুপ্রবেশ পুরো বন্ধ হয়নি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর প্রেক্ষিতে এস আই আর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য দিল্লিতে আর্জি জানাবার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। অসমর্থিত সুত্রের খবর, ইতিমধ্যেই এস আই আর পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি দিল্লিকে জানানোও হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও প্রকাশ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু এলাকায় এস আই আর করতে গেলে বাধা দেওয়ার আশংকা ও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। যা নিয়ে চিন্তিত রাজ্য নির্বাচন দফতরও। প্রয়োজনে এই সব এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে যাওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে বলে প্রকাশ।
রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ইডি, সিবিআই এর আনাগোনা অব্যাহত। কোনও এলাকায় তল্লাসিতে গেলে তাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তা নেন। বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে আসা এনআইএ ও যেখানেই যান কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েই যান। এস আই আর এর কাজেও প্রয়োজনে নির্বাচন দফতর কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা যায়।
আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও কেন্দ্রের শাসক বিজেপি এবার রীতিমত আটঘাঁট বেঁধে নির্বাচনী আসরে অবতীর্ণ হচ্ছে। উভয়েরই লক্ষ্য রাজ্যের ক্ষমতা দখল। এই লড়াই-এ সর্বশক্তি নিয়োগ করবে সিপিএম সহ বামফ্রন্ট ও। রাজ্যে নয়া রাজনৈতিক শক্তি আইএসএফ ফের বামেদের সঙ্গে জোট করতে আগ্রহী। অন্যদিকে বামেদের একাংশ কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী হলেও কংগ্রেস কি করবে তা এখনও পরিস্কার নয়। আই এস এফ কে নিয়েও বামফ্রন্ট মহলে যথেষ্ট সংশয় আছে।
এই সবের আগে সব রাজনৈতিক দলের নজর এখন SIR এর দিকে। কবে ও কিভাবে তা সম্পন্ন হবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*