রোজদিন ডেস্ক : দীর্ঘ টানাপোড়েন, পরিজনের উৎকন্ঠা, অধীর প্রতীক্ষার পর আজ সন্ধ্যায় ভারতের মাটিতে নাবালক পুত্রসহ পা রাখলেন সোনালি খাতুন। মালদার মালতীপুর সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে তাঁদের ফেরানো হয়।
তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সামিরুল ইসলাম আজকের দিন টি ঐতিহাসিক বলে বর্ননা করেন। টিএমসি নেতা অরূপ চক্রবর্তী পৃথকভাবে তাঁর আগমন কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই দিন খুব আনন্দের দিন। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরেছেন!! দেবী দুর্গা যেমন বাপের বাড়ি আসেন, সোনালি ও তাঁর আপন ঘরে ফিরলেন। বিজেপিকে তোপ দেগে অরূপ চক্রবর্তী বলেন, যে রাজাকাররা ওঁকে বাংলাদেশ পাঠিয়েছিল, আগামী নির্বাচনে এই রাজাকার অসুররা বধ হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব সোনালি খাতুনের ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিজেপিকে বিঁধে তাঁরা বলেন,বাংলা বিরোধী বিজেপি ওঁকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ওই দেশে পাঠিয়েছিল। কিন্তু তাঁরা এই অপমান মেনে নেন নি।
আদালত থেকে রাজপথ অবধি তাঁরা ওঁর পাশে থেকে লড়াই করেছেন। যা সার্থক হয়েছে।
সাংসদ সামিরুল ইসলাম বলেন, বাংলা বিরোধী, গরিব বিরোধী জমিদাররা (পড়ুন বিজেপি) জোর করে সোনালি খাতুনদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।
এই বিষয়ে উচ্চ আদালত, এমনকি দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ও তারা মানছিল না,তাঁদের আইনজীবীরা লড়াই করে এই জয় এনেছে বলে তিনি জানান।
অন্তসত্বা সোনালি খাতুনের দেশে ফেরায় স্বস্তিতে তাঁর পরিবার পরিজন। দিল্লি তে রুজির খোঁজে যাওয়া এই দরিদ্র পরিবার কে কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পুলিশ রাতারাতি অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে সোনালির উদ্বিগ্ন পিতা আদালতের দ্বারস্থ হন। পাশে ছিল রাজ্য সরকার, শাসক দল। দীর্ঘ আইনি লড়াই এর পর অবশেষে আজ ঘরের মেয়ে ফেরায় খুশি তাঁরা।
সোনালির সঙ্গে বাংলাদেশে পাঠানো সুইটি বিবির পরিবার ও ফিরবেন বলে আশা সবার।
আজ সংসদে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাভাষীদের আটক করা,বাংলাদেশে জোর করে পাঠানো নিয়ে সরব হন টিএমসি সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি ও অন্তসত্বা সোনালি বিবি ও অন্যদের জোর করে বাংলাদেশ পাঠানোর বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানান। এই সব নিয়ে শাসক বিজেপি সদস্যদের সঙ্গে তাঁর বাদ বিতন্ডা হয়। শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র নিজেদের আসন ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ ও দেখান।

Be the first to comment