রোজদিন ডেস্ক : নজিরবিহীন নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রবিবার রাজ্যে স্কুল শিক্ষা কমিশন (এসএসসি) নবম দশম শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নিতে চলেছে। দীর্ঘ ৯ বছর পর এই পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে পরীক্ষার্থী মহলের একাংশে বিষাদের ছায়া। শিক্ষক নিয়োগে ব্যপক দুর্নীতির দায়ে আদালতের নির্দেশে এক লপ্তে ২৬ হাজার শিক্ষক এর চাকরি চলে গেছে। এই সব নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই এর প্রেক্ষিতে ফের আদালতের নির্দেশে এই পরীক্ষা নিচ্ছে এস এস সি। সেখানে একজন ও “দাগী ” পরীক্ষার্থী থাকতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। দাগী কারা?, যারা টাকা দিয়ে বা শাসক দলের ঘনিষ্ঠ হিসাবে চাকরি পেয়েছিলেন, তাদেরই দাগী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এসএসসি এই দাগীদের তালিকা ও প্রকাশ করেছে। আদালত নির্দেশ দিলেও দাগীরাও রবিবারের পরীক্ষায় বসছেন কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারেননি এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারও।
রবিবারের পরীক্ষা যে এবার এসএসসিওর কাছে অগ্নিপরীক্ষাসম, সিদ্ধার্থ বাবুর বক্তব্যে তার আভাস মেলে। জানান, পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা খবর পেয়ে যাবেন। অ্যাডমিট কার্ডও আসল কিনা তাও বোঝার ব্যবস্থা করা আছে। তবে দাগীরা পরীক্ষায় বসছেন কিনা সেই প্রশ্ন তিনি কার্যত এড়িয়ে যান।
যে ওএমআর শিট না রাখা নিয়ে বারবার সমালোচনা, তিরস্কার এর মুখে পড়েছে এসএসসি, এবার তা সংরক্ষণ করা হবে। পরীক্ষায় দুর্নীতির সঙ্গে কোন আপোষ করা হবে না বলেই রীতিমত আটঘাট বেধে নামছেন তারা।
রবিবার দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা অবধি পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিশেষভাবে সক্ষমদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা ২টোর মধ্যে শেষ করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে আগেই পৌঁছাতে হবে। শুধুমাত্র অ্যাডমিট কার্ড ও পেন ছাড়া সঙ্গে কিছু নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে পেনও তাদের দেওয়া হবে। দুপুর ১১.৪৫ মিনিটে তারা মুখবন্ধ খামে প্রশ্নপত্র, ওএমআর শিট দেওয়া হবে। কিন্তু ১২টার আগে তা খোলা যাবে না। আগে তাদের উত্তরপত্র যথাযথ ভাবে পূরণ করতে হবে। কমিশন সূত্রে আরও প্রকাশ, ১ থেকে ৫ অবধি উত্তরপত্রের সব কিছু পূরণ না করলে তা বাতিল বলে গণ্য করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সাদা, অল্প লেখা ইত্যাদি উত্তরপত্র জমার মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। রবিবারের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষভাবে গ্রহণের লক্ষ্যে সব পরীক্ষা কেন্দ্রকেই স্পর্শকাতর হিসাবে দেখছে কমিশন। রাজ্যের ৬৩৬টি কেন্দ্রে ৩,১৯,৯১৯ জন পরীক্ষার্থী আছেন। প্রসঙ্গত, কমিশনের কাছে যোগ্য হয়েও কেন তাদের ফের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ বহু চাকরিহারা শিক্ষক। এবার তারা চাকরি পাবেন কিনা তাও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন।
আদালতের নির্দেশে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হবে। ওইদিন ৪৭৮টি কেন্দ্রে ২,৪৬ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষার্থী আছেন।
দীর্ঘদিন পর এই পরীক্ষা নির্বিঘ্নে ও দুর্নীতিমুক্ত ভাবে গ্রহণ এসএসসির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজ বিভিন্ন কেন্দ্রে যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থার মত পরিস্থিতি চোখে পড়েছে।
সারা রাজ্যর নজর এখন সেই দিকেই।

Be the first to comment