আই প্যাকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযান, বিস্মিত শীর্ষ আদালতও, সিবিআই তদন্ত চায় ইডি

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : আই প্যাকের কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ইডি-র তল্লাসি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রবেশ, নথিপত্র নিয়ে যাওয়া নিয়ে বিস্মিত শীর্ষ আদালতও। আজ শীর্ষ আদালতে দেশব্যাপী সাড়া জাগানো এই মামলার শুনানি হয়। ইডি এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেছে। একদিকে রাজ্য সরকার, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি-র এই নজিরবিহীন মামলায় উভয়পক্ষেই নামী আইনজীবীদের সওয়াল,পালটা সওয়ালে শীতের দিল্লি আজ উষ্ণ হয়ে ওঠে।
ইডি-র পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল রাজু এই নজিরবিহীন মামলায় সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন।

তাঁর বক্তব্য, এই মামলা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই এখানে অভিযুক্ত। কলকাতা পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি-র উপস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ইডির তল্লাশি চলাকালীন নথিপত্র কার্যত ছিনিয়ে নিয়ে আসেন, এতে স্তম্ভিত তাঁরা। পুলিশের শীর্ষকর্তাদের উপস্থিতিতে তা হওয়ায় তাঁরাও এতে জড়িত। ফলে এই ঘটনায় কোন এফআইআর হলেও তা সঠিকভাবে তদন্ত হবে না বলে তাঁরা মনে করেন। এই প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই বলে রাজু জানান।
অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষে এই মামলায় আজ সওয়াল করেন দুই বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বাল ও অভিষেক মনু সিংভি।
তাঁরা পালটা ইডি-র দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, কিছু অচেনা মানুষ ওখানে (আই প্যাকের কর্ণধারের বাড়ি) গেছেন শুনে পুলিশের শীর্ষকর্তারা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষায় গেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস নিরাপত্তা পান বলে তাঁরা জানান। রাজ্যের আইনজীবীদের কথায়, ওইদিন ভোর পৌনে সাতটা নাগাদ ইডির তল্লাশি শুরু হলেও অনেক পরে রাজ্যের আধিকারিকদের তা জানানো হয়। ইডি আধিকারিকরা অনেক পরে নিজেদের পরিচয় দেন বলে তাঁদের দাবি।
চাঞ্চল্যকর এই মামলা নিয়ে দৃশ্যত বিচলিত ছিলেন দুই বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি।
আদালত সূত্রে প্রকাশ, ইডি-র তল্লাশিতে বাধা দেওয়ায় তাঁরা বিস্মিত, ক্ষুব্ধও। ইডি-র পক্ষে আজ সওয়াল করেন তুষার মেহতা, এস ভি রাজু। তাঁদের বক্তব্য, ইডি এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নথিপত্র চুরির অভিযোগ এনেছে। এর আগেও তিনি একাধিকবার রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। এমন চলতে থাকলে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মনোবল ভেঙে যাবে। এই ধরনের ঘটনা দুঃখজনক বলেও তাঁরা জানান।
হাই প্রোফাইল এই মামলা নিয়ে শীর্ষ আদালত আরও তথ্য যাচাই, পর্যবেক্ষণে গুরুত্ব দিয়েছে বলে প্রকাশ।
ইডির পক্ষে গত ৮ জানুয়ারির এই ঘটনার সময় উপস্থিত পদস্থ আধিকারিকদেরও সাসপেন্ড করার দাবি জানানো হয়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ইডির বক্তব্য শুনে শীর্ষ আদালত মান্যতা দিলো বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ফের এই মামলার শুনানি হবে। ইডি-র বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআরেও অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ফলত ইডি-র বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার আর কোন পদক্ষেপ এখন আর নিতে পারবে না।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোন কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না তা যেমন ঠিক, আবার সৎ উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থা কোন ও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করতে গেলে তা দলের কাজ, এই অজুহাতে তদন্ত চালানোর ক্ষমতা থেকে তাদের বঞ্চিত করা যায় কিনা তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
দেশে আইনের শাসন বজায় রাখা, কেন্দ্র, রাজ্যের সংস্থা স্বাধীন ভাবে কাজ করার বিষয় খতিয়ে দেখার কথাও বলেন তাঁরা।
এই মামলায় বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। তার মীমাংসা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে, এর ফলে আইন শৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে বলেও শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*