রোজদিন ডেস্ক : নতুন সরকারের নতুন ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে ঘিরে উৎসাহ ,আবেগ, উচ্ছ্বাস উন্মাদনা। ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্টস ক্লাবের উদ্যোগে তাঁকে দেওয়া হল সংবর্ধনা। শুধু তাই নয় ,আয়োজন করা হয়েছিল একটি মিট দ্য প্রেস এরও। তরুণ ক্রীড়া মন্ত্রী স্বচ্ছন্দ সাবলীল ভাবে উত্তর দিলেন ক্রীড়া সাংবাদিকদের চোখাচোখা প্রশ্নের। প্রারম্ভিক ভাষণে মন্ত্রী বললেন বঞ্চনার দিন শেষ, ভরসার দিন শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বললেন ক্রীড়া ক্ষেত্রে শুধু কলকাতা নয় কোথাও বঞ্চনা অন্যায় অবিচার হলে সবার আগে আপনারাই দিতে পারবেন ,জানাতে পারবেন আমাকে।

বিগত সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে যুবসমাজ ভুক্তভোগী হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড়রা, বাংলার বাইরে চলে গেছে এখানে বহু খেলোয়াড়ের প্রতি বিমাতৃ সুলভ আচরণ করা হয়েছে।
ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন খেলার ময়দানে খেলা হবে রাজনীতির ময়দানে রাজনীতি আপনারাই আমাদের চোখ কান।
মন্ত্রী বলেন ম্যাচ ফিক্সিং এর মত অভিযোগ এলে আমাদের জানাবেন। সবকা সাথ সবকা বিকাশ আমাদের প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান। প্রত্যেকের মিলিত ভূমিকার মাধ্যমে বাস্তব চিত্র দ্রুততার সঙ্গে আমাদের সামনে তুলে ধরুন। তিনি বলেন এখন ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে, আমরা এই গানটি সবাই জানি সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল। কিন্তু বাঙালি শুধু দর্শকই রয়ে গেল। আমাদের ছেলেমেয়েরা একদিন মেন ইন ব্লু হয়ে ভারতের হয়ে বিশ্বকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। এটাই আমার আশা। ইন্দ্রনীলবাবু দৃপ্ত কন্ঠে বলেন এখানে সিন্ডিকেট চলবে না, আগের মত রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি বা পলিটিক্যাল নেপোটিজম ও হবে না। এইরকম কোন ঘটনা ঘটলে আপনারা সেই বঞ্চনার কথা সরকারকে জানাবেন, সরকার সদা জাগ্রত।

বারবার তিনি খেলো ইন্ডিয়ার কথা বলেন এবং প্লেয়ারদের পুষ্টি বা নিউট্রিশন এর ব্যাপারে বিশেষ জোর দেওয়ার কথা বলেন। আমাদের ছেলেমেয়েরা বিশ্ব দরবারে স্বর্ণপদক পাবে এটাই আশা আমাদের বলেন মন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবের মন্ত্রী বলেন বিদ্যালয় স্তরেই খেলাধুলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে ।কারণ ছেলেমেয়েদের ফিজিক্যাল ও মেন্টাল বা শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বা ফিটনেস খুবই জরুরী।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য শিক্ষা সব ক্ষেত্রে রাজনীতি ঢুকেছে। টাকা পয়সা লেনদেনের ঘুঘুর বাসা ভাঙার দায়িত্ব আমরা নিচ্ছি।
রাজ্যের বিগত সরকার খেলো ইন্ডিয়া বয়কট করেছিল। খুব তাড়াতাড়ি খেলো ইন্ডিয়ার সুফল আমরা পাব।

তিনি বলেন বিখ্যাত খেলোয়ারদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। কোন লুকোচুরির কিছু থাকবে না খেলার বাইরে কোন এক্সট্রা স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটিজ এর মধ্যে যেতে চাই না। কোথাও থ্রেট কালচার যোগ্যদের বঞ্চিত করা চলবে না আমরা একটা স্পোর্টস পলিসি তৈরি করব।
এক প্রশ্নের জবাবই তিনি বলেন আমাদের প্লেয়াররা ন্যাশনাল এক্সপোজারে পিছিয়ে যাচ্ছে, কারণ আমাদের বাংলায় খেলার পরিকাঠামো তত ভালো নয়,আমরা অবহেলিত ।আমরা ন্যাশনাল গেম এখানে পেতে পারি এবং সফলতার সঙ্গে করতে পারি। পাশাপাশি মন্ত্রী এও বলেন কলকাতা কেন্দ্রিক হলে হবে না প্রত্যেক জেলায় যে ট্যালেন্ট আছে , তারা এক্সপোজারের অভাবে সাপোর্টের অভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন তাই জেলার খেলার ক্ষেত্রেও জোর দিতে হবে উত্তরবঙ্গ রাঢ়বঙ্গ জঙ্গলমহল নদিয়া এইসব জায়গা থেকে খেলোয়াড় তুলে আনতে হবে। এবং সেখানকার ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে।

জেলার খেলার স্টেডিয়ামগুলি তে গরু চরে,এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন আমাদের কলকাতায় ইডেন গার্ডেনস আছে আছে সল্টলেক স্টেডিয়াম সেই রকমই জেলার স্টেডিয়াম গুলোকে উন্নত করতে হবে। তিনি দুঃখ করে বলেন কেকেআর এ কোন বাঙালি ক্রিকেটার নেই বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবগুলোতেও বাংলার ফুটবলারদের অভাব। বিদেশি খেলোয়াড়েরা টিমে আসুক আপত্তি নেই ,কিন্তু আমাদের বাংলার ছেলেমেয়েদেরও উঠে আসতে হবে।
সংকল্পপত্রে বিজেপি বলেছিল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি করবে, এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন,রাজ্যে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় হবেই। অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন চিঠি পেয়েছি। আগামী দিনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভয় আউট ভরসা ইন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রের মত খেলাতেও রাজনীতি চলতো, কিন্তু এখন খেলার ময়দানে খেলা হবে। তা হবে রাজনীতি মুক্ত।
মন্ত্রী আবারো বলেন আন্ডার দা টেবিল কিছু হবে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন তিনি চাইতেন বেটিং থাকুক ম্যাচ ফিক্সিং থাকুক। নিশ্চিন্ত থাকুন আমরা এইগুলি বন্ধ করব।
জেলা থেকে খেলোয়াড় তুলে আনতে আগামী দিনের তিনি সরেজমিনে জেলা ভিজিট করবেন বলে জানান। আগামী দিনে বিদ্যালয়গুলো ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে সরকার হবে তাদের অভিভাবকের মতো দরকার সামাজিক সচেতনতা ও।
পরিশেষে মন্ত্রী বলেন শুধু বঞ্চনা নয় বিগত সরকারের আমলে অত্যাচার চলেছে ।প্রপার ডায়েট ফলো করা হতো না। খেলোয়ারদের নিম্নমানের খাওয়ার দেওয়া হতো । ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে যে প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী ও তার ভাই দুর্নীতির আশ্রয় নিতেন। এগুলির ব্যাপারে তদন্ত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনের আগে ইন্দ্রনীল খাঁ সিএসজেসির মহিলা ফুটবল টিমের সঙ্গে করমর্দন করেন, ছবি তুলে উৎসাহিত করেন।

Be the first to comment