রোজদিন ডেস্ক : এই নির্বাচন কমিশন মানুষের কাছে নয়, বিজেপির কাছে দায়বদ্ধ। বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিজেপির চক্রান্তে সামিল হয়েছে তারা। এতদিন ভোটাররা সরকারকে নির্বাচিত করতো, আর বিজেপি জমানায় সরকার নিজেদের পছন্দ মত ভোটারদের নির্বাচিত করছে। ইলেকশন কমিশন আজ বিজেপির শাখা সংগঠনে পরিণত হয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার ও স্বার্থরক্ষার বদলে তাঁরা এখন বিজেপির স্বার্থরক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে। বাংলায় দেড় কোটি থেকে দু’কোটি ভোটারকে বাদ দিতে হবে। বিজেপির দেওয়া টার্গেট সামনে রেখেই তারা কাজ করছে। দেশের বর্তমান জন প্রতিনিধিত্ব আইনকে তোয়াক্কা না করে কীভাবে তাঁরা লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছে? কাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে? কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে? কোথায় সেই লিস্ট? কেন সেই লিস্ট প্রকাশ্যে আনা হবে না? এসআইআরের কাজে এই ধরনের একরাশ অসঙ্গতির প্রতিবাদ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার দুপুরে তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইও দফতরে গিয়ে সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে ওই চিঠি তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, ডাঃ শশী পাঁজা, ডাঃ মানস ভুঁইয়া ও মলয় ঘটক।
সিইও-র সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, শোনা যাচ্ছে মৃত, অনুপস্থিত, ডুপ্লিকেট ও স্থানান্তরিত ভোটার মিলিয়ে মোট ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা ইআরওদের এক্তিয়ারভুক্ত। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, সে ক্ষমতা তাঁদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে অন্য কাউকে দেওয়া হচ্ছে। সেটা কেন করা হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন চন্দ্রিমা। বলেন, এটা কি ওই দেড় না দু’কোটি যে লক্ষ্য বেধে দেওয়া হয়েছে সেটা পূরণ করার তাগিদ? এই যে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের মধ্যে অসঙ্গতি বলা হছে, সে সবই কি ওই একই কারণে? কিন্তু জেনে রাখুন, এসব চলবে না। আপনারা দেশের আইন মেনে কাজ করছেন না। শুনানির জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা। প্রথমে বলা হল, ১৭ তারিখ, তারপর সেটা হল ২৩ তারিখ, এখন শুরু হল ২৭ তারিখ। এই ৫ দিনে কীভাবে এত লোকের শুনানি সম্ভব হবে? যারা কোনও কারণে বাইরে আছে, তারা এই ৫ দিনে কীভাবে আসবে? তাহলে তাঁরাও বাদ! বয়স্ক ৮০/৮৫ বছরের নাগরিকদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এভাবে হেনস্তা করার মানে কি? প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। যারা শয্যাশায়ী তাঁরা কীভাবে আসবেন? আর না আসলেই বাদ! বয়স্কদের আসার সমস্যা, তাই সব জেনেই কি তাঁদের ডাকা হচ্ছে? দূরে দূরে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে? যাতে লোকজন যেতে না পারেন। আর না আসতে পারলেই বাদ! এভাবেই তাহলেই বিজেপির দেওয়া লক্ষ্যপূরণ করছে কমিশন, এমনই অভিযোগ তৃণমূলের।

Be the first to comment