রোজদিন ডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এসআইআরই হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের পয়লা নম্বর হাতিয়ার। শুক্রবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে সেই কথাই বুঝিয়ে দিল দল। এদিন ধরনার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তৃণমূলনেত্রী। এদিনই তিনি ঘোষণা করেন, ধরনা এখানেই শেষ নয়, আরও ২-৩ দিন চলবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসআইআর তালিকায় যে ২২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁরাও আসবেন এই মঞ্চে। মমতা বলেন, কমিশন যাদের মৃত ঘোষণা করেছে, তাঁরা জীবিত আছেন। তাঁদের এই মঞ্চে হাজির করব। নির্লজ্জ, একটা বেহায়াদের পার্টি। আর তাঁদের দালাল নির্বাচন কমিশন। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি। কমিশনের খাতায় ওঁরা মৃত। আজ তাঁদের প্যারেড করাব। মিডিয়াকে আমি রিকোয়েস্ট করব, ওঁরা বেঁচে আছেন। ২২টি পরিবার আসবে। আমরা ওদের সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।

ধর্মতলার এদিনের ধরনা মঞ্চ ফের সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতি উসকে দিল। সেদিনও ধরনায় বসেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। এবারও সেই ধর্মতলা, সেই ধরনা মঞ্চ। নাছোড় তৃণমূলনেত্রী। তবে এদিন তিনি নিজে কোনও ভাষণ দেননি। উল্টে এগিয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বাকি নেতাদের। ধরনা শুরু হওয়ার পর বেশ খানিকটা পর সন্ধের একটু আগে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মঞ্চে উঠে বলেন, এবার শুধু নো ভোট টু বিজেপি নয়, বয়কট বিজেপি। সেইসঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা এত কিছুর পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের পার্সেন্টেজ ও আসনসংখ্যা দুইই বাড়বে। তাঁর কথায়, এক বছর আগেই বলেছিলাম যাই করুক তৃণমূলের ভোটের পার্সেন্টেজ ও আসন দুইই বাড়বে। আজও তাই বলছি। তাঁর সংযোজন, যে প্রাণ অকালে ঝরে গেছে সেই বলিদান বৃথা হতে দেব না। এদিন বিজেপির রথযাত্রার তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বাংলা-বিরোধী জমিদার চড়বে রথে আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা থাকব পথে। তাঁর চ্যালেঞ্জ এবারের নির্বাচনে বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামাব। বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এভাবে প্রতিবাদে পথে নামার জন্য নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুর্নিশ জানিয়ে বলেন, ওরা অপরিকল্পিত এসআইআর করছে। সেই চক্রান্তের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নেমেছি। শুধু তাই নয় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ওদের জন্য ১৭২ জনের প্রাণ গিয়েছে। এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যাতে ১৭২টি বুথেও যেন ওদের খুঁজে না পাওয়া যায়।
অভিষেক আরও বলেন, ৩৩ বছর আগে ১৯৯৩ সালে সচিত্র পরিচয়পত্রের দাবিতে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। আবার ৩৩ বছর পর এই লড়াইয়ে নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে এটুকু বলতে পারি এই নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট বাড়বে। আগেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন আছে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, গোলাম রব্বানি, ময়নাগুড়ির বিডিওর নাম বিচারাধীন। এভাবে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি বিচারাধীন থাকে তবে মোদির চেয়ারও বিচারাধীন থাকবে।

Be the first to comment