রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ভাঙা হচ্ছে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর বসতবাটি। বাংলাদেশের ময়মনসিং শহরের হরিকিশোর রায় রোডে অবস্থিত দেড় শতাব্দী প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক ভবন ভাঙার সিদ্ধান্তে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বাড়িটিই উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ছিল।
স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িটিকে ভাঙা নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “আমি অত্যন্ত মর্মাহত যে ঢাকায় অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িটি বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এই শতাব্দী প্রাচীন সম্পত্তিটি ছিল সত্যজিৎ রায়ের দাদা, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর।”
“ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা আমাদের ঐতিহ্যের উপর আক্রমণের সমান। এটি সর্বত্র বাঙালির সম্মিলিত বিবেকের উপর আঘাত এবং বিশ্ব শিল্পে রায় পরিবারের অতুলনীয় অবদানের প্রতি এক ধরনের অবনতি। আমি বাংলাদেশ সরকারকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার এবং এই সাংস্কৃতিক নিদর্শন রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এই অপূরণীয় অংশটি যাতে ধ্বংসের ফলে হারিয়ে না যায় তা নিশ্চিত করার জন্য আমি ভারত সরকারকে যথাযথ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বিবৃতি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়, “বাংলাদেশের ময়মনসিংহে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি ভাঙার ঘটনা সাংস্কৃতিক ভাঙচুরের চেয়ে কম কিছু নয়। আমরা দাবি করছি যে বাংলাদেশ সরকার অবিলম্বে এই ভাঙন বন্ধ করুক এবং এই বাড়িটিকে একটি সুরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করুক।”
ইতিমধ্যেই এই ঘটনাটির নিন্দা করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Be the first to comment