তপন মল্লিক চৌধুরী :
এই প্রথম নয়। এর আগেও দিল্লি বার বার বিস্ফোরণে কেঁপেছে। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ গত দু’দশক ধরে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া সেইসব বিস্ফোরণের স্মৃতি ফের জাগিয়ে দিয়েছে। ১৯৯৭ সাল থেকে দিল্লি কাঁপিয়ে দেওয়া বেশ কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের দিকে একবার নজর দেওয়া যাক।
৯ জানুয়ারী, ১৯৯৭: আইটিওতে দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরের বিপরীতে বোমা বিস্ফোরণে ৫০ জন আহত।
১ অক্টোবর, ১৯৯৭: সদর বাজার এলাকায় একটি মিছিলের কাছে দুটি বোমা বিস্ফোরণে ৩০ জন আহত।
১০ অক্টোবর, ১৯৯৭: শান্তিভান, কৌরিয়া পুল এবং কিংসওয়ে ক্যাম্প এলাকায় তিনটি বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত, ১৬ জন আহত।
১৮ অক্টোবর, ১৯৯৭: রানিবাগ বাজারে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং ২৩ জন আহত।
২৬ অক্টোবর, ১৯৯৭: কারোলবাগ বাজারে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং ৩৪ জন আহত।
৩০ নভেম্বর, ১৯৯৭: লাল কেল্লা এলাকায় জোড়া বোমা বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং ৭০ জন আহত।
৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯৭: পাঞ্জাবিবাগের কাছে একটি বাসে বোমা বিস্ফোরণে চারজন যাত্রী নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত।
২৬ জুলাই, ১৯৯৮: আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি) এর কাশ্মীরি গেটে পার্ক করা একটি বাসে উচ্চ-তীব্রতার বিস্ফোরণে দু’জন নিহত এবং তিনজন আহত হন।
১৮ জুন, ২০০০: দিল্লির লাল কেল্লার কাছে দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী একটি বালিকা-সহ দু’জন নিহত এবং প্রায় এক ডজন আহত হন।
২২ মে, ২০০৫: দিল্লির দুটি সিনেমা হলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং ৬০ জন আহত হন।
২৯ অক্টোবর, ২০০৫: সরোজিনী নগর ও পাহাড়গঞ্জ বাজারে তিনটি এবং দিল্লির গোবিন্দপুরী এলাকায় একটি বাসে বিস্ফোরণে ৫৯ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েকজন বিদেশীসহ ১০০ জনেরও বেশি আহত হন।
১৪ এপ্রিল, ২০০৬: পুরনো দিল্লির জামে মসজিদের উঠোনে দুটি বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৪ জন আহত হন।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৮: দক্ষিণ দিল্লির কনট প্লেস, কারোলবাগের গাফফার মার্কেট এবং গ্রেটার কৈলাস-১ এর এম-ব্লক মার্কেটে ৪৫ মিনিটের মধ্যে পাঁচটি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৫ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হন।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮: কুতুব মিনারের কাছে মেহেরৌলি ফুলের বাজারে একটি কম তীব্রতার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত এবং ২১ জন আহত হন।
২৫ মে, ২০১১: দিল্লি হাইকোর্টের বাইরে একটি গাড়ি পার্কিংয়ে ছোট বিস্ফোরণ, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১: দিল্লি হাইকোর্টের গেট নং-৫-এর বাইরে বিস্ফোরণ। ১৫ জন নিহত, ৭৯ জন আহত হন। হারকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামী (Harkat-ul-Jihad al-Islami – Huji)-এর নামে ইমেল পাঠিয়ে দায় স্বীকার করা হয়।
প্রশ্ন, হাই এলার্ট সম্বলিত বিজেপি শাসিত এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ এর অধীনস্থ দিল্লিতে কেন এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ? এটি যে জঙ্গী হামলা সেই সন্দেহ স্বাভাবিক ভাবেই করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে সাধারণ মানুষের মনে এটি জঙ্গী হামলা বলেই বিশ্বাস হচ্ছে।
যতটুকু জানা গিয়েছে যে, অতিসম্প্রতি দিল্লি সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রচুর বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে। কিন্তু তা স্বত্বেও এমন একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা এড়ানো গেল না। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে পাক জঙ্গীদের যোগসাজশের জল্পনা প্রকট হয়ে উঠেছে। এই ধরনের ঘটনায় পাক সন্ত্রাসীদের যোগসাজস থাকার তথ্য পরিবেশন করে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি বারবারই ধামাচাপা দেওয়া হয়। এবারও যে সেটাই হবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু লক্ষনীয় বিষয় হল আমদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবে অনেকেই ধরা পড়েছে … তাদের অধিকাংশই কিন্তু শাসক দলের তথা বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কেউ বা আবার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে কর্মরত ছিল।। তাদের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আমরা কী সে বিষয়ে কিছু জানি? অন্যভাবেও যদি বলা হয় যে দেশে যখনই সাধারণ মানুষ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হয়, প্রশ্ন তোলে কিংবা সম্মিলিত প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে, ঠিক তখনই কেন দেশের মানুষ এই ধরণের ভয়াবহ ঘটনার সন্মুখীন হয়? এই মুহূর্তে গণতন্ত্রের নামে ধোঁকাবাজি করে লাগামছাড়া ভোট চুরির ঘটনা সারা দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এর দায় যে মোদী- শাহের কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি দল সে বিষয়ে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট প্রক্রিয়ায় হাজারো অনিয়ম প্রকাশ্যে এসেছে। একে একে অন্যসব রাজ্যেও ভোট প্রক্রিয়ার জালিয়াতি হবে। সেই জন্যই কী দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে দিল্লিতে এই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ?

Be the first to comment